ভারী বৃষ্টিতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমার পানি ১৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ছাতক সেতু পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জ সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) সুনামগঞ্জে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাতক উপজেলায় ৪০ মিলিমিটার ও তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ ও ভারতের উজান মেঘালয় রাজ্যে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ছাতক পৌর শহরের পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া বলেন, বৃষ্টি কমায় সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত দুই দিন আবার টানা বৃষ্টি হওয়ায় নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। নদীর পানি বিভিন্ন এলাকায় প্রায় রাস্তার সমান হয়ে গেছে। এভাবে টানা ভারী বৃষ্টি হতে থাকলে নদী তীরের রাস্তাঘাট প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয়ে আরও দুদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বেড়েছে এবং ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি না হলে পানি আবার কমে যাবে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
.png)





