এশিয়া পোস্টের সংবাদে টুঙ্গিপাড়ায় বর্নি মাদ্রাসার জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের বর্নি জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রকাশের পর পানি নিষ্কাশনে উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশে রোববার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মাদ্রাসার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, ছাত্রাবাস ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যায়। নূরানী বিভাগের শ্রেণিকক্ষে কোমরসমান পানি জমে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, বিছানাপত্র, পোশাকসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়। জলাবদ্ধতার কারণে টানা তিন দিন শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
সংবাদ প্রকাশের পর রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সকাল ৯টা থেকে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ, চলাচলের পথ এবং আশপাশের পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা দূর করে জমে থাকা পানি অপসারণের কাজ করা হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে নূরানী বিভাগে রয়েছে প্রায় ২০০ জন কোমলমতি শিশু। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবাসিক ও অনাবাসিক হিসেবে এখানে পড়াশোনা করে। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ও আবাসিক জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম. মুক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুর ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান খান, যুবদল নেতা শামিম আহম্মেদ (টুটুল), শেহাব মোল্লাসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় বর্নি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সামাদ মুন্সীও উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি এম. মুক্তার হোসেন বলেন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী সার্বক্ষণিক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন এবং কীভাবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা যায় সে বিষয়ে ধারাবাহিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করি। সৃষ্টিকর্তার রহমতে আজই কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছি।
মাদ্রাসার সহকারী মুহতামিম মাওলানা এমদাদুল হক বলেন, টানা বৃষ্টিতে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও আবাসিক অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে কয়েক দিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।




