Advertisement

চুরির অভিযোগে আটক নারীকে আনসার সদস্যের লাঠিপেটা, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মেহেরপুর
চুরির অভিযোগে আটক নারীকে আনসার সদস্যের লাঠিপেটা, সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে চুরির অভিযোগে আটক এক নারীকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার আগে এক আনসার সদস্য লাঠি দিয়ে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালে দায়িত্বরত এক আনসার সদস্য চুরির অভিযোগে আটক ওই নারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। ঘটনাটি বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর আগেই একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ওপর শারীরিক বলপ্রয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পেশাগত আচরণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তুলেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চুরি ও পকেটমারের অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় ছয় নারীকে আটক করা হয়। পরে হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাদের মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রুমি (১৭), মনিকা (১৭), মনোয়ারা (১৮), সীমা (১৬), রহিমা (৩৫) ও আফরোজা (৬০)। পুলিশ জানায়, তাদের সবার বাড়ি জামালপুর জেলায়। বর্তমানে তারা মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুরির অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় লোকজন ওই নারীদের আটক করে হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা এক পুরুষ আনসার সদস্য সন্দেহভাজন এক নারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আটক নারীদের মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক নারীদের তল্লাশি চালিয়ে অভিযোগে উল্লেখিত চুরি যাওয়া টাকা বা কোনো স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা যায়নি। পরে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিওটি ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি আটক বা সন্দেহভাজন হলেই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা কতটা আইনসংগত? একই সঙ্গে একজন পুরুষ আনসার সদস্যের মাধ্যমে এক নারীকে লাঠি দিয়ে মারধরের বিষয়টিকেও নেটিজেনরা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ হিসেবে দেখছেন।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও অভিযুক্ত আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জেলা আনসার কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আনসার সদস্য সুভাষ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার আগে 'পোশাক পরে আসার' অজুহাত দেখিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে আর ফিরে আসেননি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহযোগী গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলকভাবে বলেন, আপনারা যা পারেন করে নেন।

বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুর জেলা আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) কমান্ড্যান্ট আল আমিন বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য আমার কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা হবে, তা জানানো হবে।

অন্যদিকে, মেহেরপুর জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, আনসার সদস্যদের প্রশিক্ষণে কিছু ঘাটতি থাকতে পারে। তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে হয়তো তারা মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেননি। তারা চুরির অভিযোগে সন্দেহভাজন ছয় নারীকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিষয় :মেহেরপুর