আদালতে মামলা/কিডনি বিক্রির চুক্তি ১০ লাখে, পেলেন ৫০ হাজার টাকা

অভাব কখনও শুধু মানুষের পকেট নয়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও অসহায় করে তোলে। ঋণের ভারে ন্যুব্জ এক দিনমজুরের কাছে ১০ লাখ টাকার প্রতিশ্রুতি ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের বিনিময়ে হারাতে হয়েছে শরীরের একটি কিডনি। প্রতিশ্রুত ১০ লাখ টাকার বদলে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।
প্রতারণার শিকার দাবি করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর মন্টু মিয়া গত ১৩ জুলাই জয়পুরহাট আদালতে মামলার আবেদন করেছেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার আসামিরা হলেন—বগুড়া সদর উপজেলার নিশিন্দারা-খাঁনপাড়া গ্রামের সাব্বির আহমেদ, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক মল্লিকপাড়া গ্রামের সুমন আলী, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান ও সাইদুর রহমান, লওনা-বহুতি গ্রামের আব্দুস ছাত্তার এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছোট হোসেনপুর রাজাগঞ্জ এলাকার তারেক আজম ওরফে বাবলু চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব-অনটন এবং এনজিও ও স্থানীয় ব্যক্তিদের ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন মন্টু মিয়া। সেই দুর্বলতাকে পুঁজি করে অভিযুক্তরা তাকে কিডনি বিক্রির প্রস্তাব দেন। তাকে বলা হয়, ঢাকার এক ধনাঢ্য নারীর জন্য কিডনি প্রয়োজন। বিনিময়ে দেওয়া হবে ১০ লাখ টাকা। দারিদ্র্যের গ্লানি থেকে মুক্তির আশায় তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেন।
আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে অভিযুক্তরা তাকে ঢাকায় নিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করে দেন এবং ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। পরে ভারত হয়ে তাকে নেপালের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার একটি কিডনি অপসারণ করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসার নামে হাসপাতালে রাখার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফিরে চুক্তি অনুযায়ী বাকি সাড়ে ৯ লাখ টাকা চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত ১৩ জুন জয়পুরহাটের ৫ নম্বর আমলি আদালতে মামলা করেন মন্টু মিয়া। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে কালাই থানাকে নির্দেশ দেন। পরে থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
জেলা জজ আদালতের আইনজীবী উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে মানবদেহের অঙ্গ নিয়ে অবৈধ বাণিজ্যের অভিযোগ অত্যন্ত ভয়াবহ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
.png)






