কুমিল্লায় প্রবাসীর ৫ ফুট চওড়া ব্যতিক্রমী বসতবাড়ি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্প পেন্নাই গ্রামে মাত্র এক শতাংশ জমিতে নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর ঘিরে তীব্র কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব প্রবাসী মো. শাহজালাল তার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে ঘরটি নির্মাণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘরটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যে জমির ওপর ঘরটি নির্মিত হয়েছে, তা আগে একটি নিচু ডোবা ছিল। চলতি বছরের জুনে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ডোবাটি ভরাট করে টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে ঘরটি তৈরি করা হয়। শাহজালালের পরিবারের এটিই এখন একমাত্র আশ্রয়। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫ ফুট হলেও চওড়ায় মাত্র ৫ ফুট।
শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার এশিয়া পোস্টকে জানান, ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। তখন শাহজালাল দেশে মাইক্রোবাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরবর্তীতে তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। কিন্তু পারিবারিক কোন্দল ও জমি সংক্রান্ত মামলার কারণে পৈতৃক ভিটায় স্থায়ী হওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দিন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, এমনকি খোলা আকাশের নিচেও দিন কাটাতে হয়েছে এই পরিবারটিকে।
তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে শাহজালাল সৌদি আরবে যাওয়ার পর তার পাঠানো অর্থ দিয়ে অবশেষে মাথা গোঁজার এই ঠাঁইটুকু তৈরি সম্ভব হয়। বর্তমানে খাদিজা আক্তার তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে এই ঘরেই বসবাস করছেন। জায়গা ছোট হলেও ঘরের ভেতর প্রয়োজনীয় সবকিছুর সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি ছোট চৌকিতে সন্তানদের নিয়ে তিনি ঘুমান। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় অতিরিক্ত কাঠ ও মোড়া ব্যবহার করে রাতে শোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের সামনের অংশে রান্নাঘর, তার পরেই খাবার জায়গা। মাঝের অংশে শোয়ার ঘর (ছোট চৌকি রাখা) এবং কাপড় রাখার আলমারি-ওয়্যারড্রব। ঘরের একদম শেষ প্রান্তে পানির মোটর ও শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘরের সামনে চলাচলের জন্য এবং পেছনে বসার জন্য কিছু খোলা জায়গা রাখা হয়েছে।
ব্যতিক্রমী এই ঘরটি দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, এত অল্প জায়গায় এমন পরিকল্পিতভাবে ঘর নির্মাণ সত্যিই বিস্ময়কর। এটি শুধু একটি ব্যতিক্রমী ঘরই নয়, বরং একটি অভাবী পরিবারের জীবনসংগ্রামের প্রতীক।
প্রতিবেশী মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নিজস্ব কোনো থাকার জায়গা ছিল না। অনেক কষ্টের পর অবশেষে তারা মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে। ছোট হলেও এটি তাদের জন্য বড় এক স্বস্তির জায়গা।
এ বিষয়ে গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার এশিয়া পোস্টকে বলেন, এলাকায় জমির দাম অনেক বেশি হওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে বড় জমি কেনা সম্ভব হয় না। তাই শাহজালাল বাধ্য হয়ে এই স্বল্প জায়গাতেই পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন।
.png)







