Advertisement

নড়বড়ে ঝুলন্ত সেতুই একমাত্র ভরসা ১২ গ্রামবাসীর

ছোটন বিশ্বাস, খাগড়াছড়ি
নড়বড়ে ঝুলন্ত সেতুই একমাত্র ভরসা ১২ গ্রামবাসীর
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ধলিয়া খালের ওপর নড়বড়ে ঝুলন্ত সেতু। ছবি: এশিয়া পোস্ট

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদপুর বড়ঝলা এলাকায় ধলিয়া খালের ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ থেকে ১২টি গ্রামের প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার মানুষ। হাসপাতাল সড়কসংলগ্ন খালটির ওপর নির্মিত একটি নড়বড়ে কাঠের ঝুলন্ত সেতুই বর্তমানে তাদের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সাধারণ মানুষ পারাপার হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ধলিয়া খালের পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুলন্ত সেতুটি তলিয়ে যায় কিংবা ভেসে যায়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে অস্থায়ীভাবে এটি মেরামত করা হলেও তা টেকসই হয় না। মাঝেমধ্যেই সেতুর পাটাতন দেবে গিয়ে শিশু ও বয়স্করা দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্ষায় খালের পানি বাড়লে ওপারের বাসিন্দারা বাজারে আসতে পারেন না, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহেও চরম সংকটে পড়তে হয় তাদের।

মোহাম্মদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আব্দুল হাই ভূঁইয়া জানান, বছরের পর বছর ধরে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে যাতায়াত করছেন। বর্ষা শুরু হলেই হাসপাতালে রোগী নেওয়া কিংবা শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। তিনি অবিলম্বে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, সেতুটির ওপর দিয়ে হাঁটলে তা দুলতে থাকে, যা শিশুদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক। অতিবৃষ্টিতে খালের পানি বাড়লে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

রেব্রেচাই মারমা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে সবাই সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন, কিন্তু পরে আর কেউ খোঁজ নেন না। বর্ষাকালে বাজারে যেতে না পেরে অনেক সময় কষ্টে দিন কাটাতে হয়। মানুষের জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখানে দ্রুত সেতু করা দরকার।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতির কথা বললেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে মোহাম্মদপুর, রসুলপুর, বড়ঝলা, ছনখোলা পাড়া, আটবাড়ি, তৈকাতান ও মিস্ত্রিপাড়াসহ আশপাশের ১০-১২টি গ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মানুষের ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিগত সময়ে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ হয়নি। খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আমাদের নেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। ধলিয়া খালের ওপারের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ নিরসনে আশা করছি শিগগিরই এখানে একটি স্থায়ী সেতুর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ধলিয়া খালের ওপর ঝুলন্ত সেতু দিয়ে স্থানীয়দের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের বিষয়টি আমরা অবগত। ওপারের অধিবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এর সুরাহা হবে।

স্থানীয়দের মতে, নড়বড়ে সেতুর ওপর নির্ভরশীল হাজারো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আর কোনো আশ্বাস নয়— ধলিয়া খালের ওপর একটি টেকসই ও স্থায়ী সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

বিষয় :খাগড়াছড়ি