Advertisement

৫০ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা, জোটেনি একটি সেতু

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নোয়াখালী
৫০ বছর ধরে সাঁকোই ভরসা, জোটেনি একটি সেতু
জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা—তবুও বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় কাঁধে স্কুলব্যাগ নিয়ে প্রতিদিন বাঁশ ও কাঠের তৈরি একটি নড়বড়ে সাঁকো পার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শুধু শিক্ষার্থী নয়, বাজার কিংবা হাসপাতালে যেতেও এলাকার বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা এই সাঁকোটি।

নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের মুসলিম কলোনি সংযোগ সড়কে নোয়াখালী খালের ওপর নির্মিত এই জরাজীর্ণ সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষের যাতায়াত। অথচ, গত ৫০ বছরেও একটি স্থায়ী সেতু জোটেনি তাদের ভাগ্যে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাঁশ ও কাঠের সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার অন্যতম প্রধান নোয়াখালী খালের ওপর নির্মিত বাঁশ ও কাঠের সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোথাও বাঁশ ক্ষয়ে গেছে, আবার কোথাও কাঠ আলগা হয়ে আছে। একসঙ্গে কয়েকজন উঠলেই সাঁকোটি দুলতে থাকে। প্রতিদিন এই পথ দিয়েই চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ।

জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে ঝুকিপূর্ণ যাতায়াত। ছবি: এশিয়া পোস্ট
জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে ঝুকিপূর্ণ যাতায়াত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে তাদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টিতে সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়লে প্রায়ই মানুষ পিছলে খালে পড়ে যান। অতীতে শিক্ষার্থীদের বই-খাতাসহ খালে পড়ে যাওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হওয়াও এখানে নতুন কিছু নয়।

নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারিয়া ইবনাত বলে, প্রতিদিন এই সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে খুব ভয় লাগে। সাঁকো ভিজে পিচ্ছিল হয়ে গেলে মনে হয় এই বুঝি পড়ে গেলাম। নিরাপদে চলাচলের জন্য দ্রুত এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কাজী কলোনির বাসিন্দা হেমা আক্তার বলেন, বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালে রোগী নেওয়া—সবকিছুর জন্যই এই সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়। শিশু, বয়স্ক মানুষ কিংবা গর্ভবতী নারীদের পারাপার সবচেয়ে কষ্টকর। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীকে কোলে করে সাঁকো পার করতে হয়। জরুরি মুহূর্তে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বর্ষায় সাঁকোটি পানিতে ডুবে গেলে আড়াই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা ঘুরে শহরে যেতে হয়।

কাদির হানিফ বাজারের ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দেখে আসছি। সময় বদলেছে, চারপাশে উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে একটি সেতু জোটেনি। প্রতিদিন ২০-৩০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

স্থানীয়দের মতে, এই সাঁকোটি কেবল পারাপারের মাধ্যম নয়, এটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মূল সংযোগসূত্র। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মিত হলে এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

এ বিষয়ে নোয়াখালী সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদ বলেন, ১৫০ মিটার পর্যন্ত গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সরকারি বিধি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

জেলা সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি। যে কোনো একটি প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

বিষয় :নোয়াখালী