Advertisement

মধ্যস্বত্বভোগী নিয়ন্ত্রণ/বিশ্বের নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বাংলাদেশের আড়তদার-সংকট

বিশ্বের নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং বাংলাদেশের আড়তদার-সংকট
এম এম মুসা। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক গবেষণায় একটি চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, দেশের দশটি অপরিহার্য খাদ্যপণ্যের মধ্যে ছয়টির ক্ষেত্রে—পেঁয়াজ, আলু, কাঁচামরিচ, বেগুন, ডিম ও রুই মাছ—খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত একটি একক উৎস, নগর আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল। সিপিডির নিজস্ব গবেষণা অনুযায়ী, এই নির্ভরতা দর-কষাকষির ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা এবং মূল্যের অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনটিতে সুপারিশ করা হয়েছে যে, প্রতিযোগিতা কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আড়তদার পর্যায়ের কারসাজি, মজুতদারি ও অস্বচ্ছ কমিশন তদন্ত করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কীভাবে? বিশ্বের যেসব দেশ কাঠামোগতভাবে অভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ তৈরি করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করাই এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য।

যুক্তরাজ্যের শিক্ষা: ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা যখন আইনি স্বীকৃতি পায়

২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিযোগিতা কমিশন প্রথমবারের মতো সুপারমার্কেটে তদন্ত চালিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রতিযোগিতাবিরোধী চর্চা চিহ্নিত করে। ২০০৬ সালের মধ্যে দেশটির ‘বিগ ফোর’ খুচরা চেইন—টেসকো, সেইন্সবারি, আসদা ও মরিসন—মূল্যের হিসাবে মুদি বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছিল। ২০০৮ সালে প্রতিযোগিতা কমিশন পাঁচশর বেশি সরবরাহকারীর ওপর জরিপ চালিয়ে প্রমাণ পায় যে, বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ক্রয়-ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরবরাহকারীদের ওপর একতরফাভাবে খরচ ও ঝুঁকি চাপিয়ে দিচ্ছে—চুক্তি স্বাক্ষরের পর শর্ত বদলে ফেলা, বিলম্বে অর্থ পরিশোধ, শেলফে জায়গা পাওয়ার জন্য বাড়তি অর্থ দাবি করা ইত্যাদি। এই তদন্তের সুপারিশেই ২০১০ সালে আইনি বাধ্যবাধকতাসহ ‘গ্রোসারিজ সাপ্লাই কোড অব প্র্যাকটিস’ (জিএসসিওপি) এবং ২০১৩ সালে একটি স্বাধীন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ‘গ্রোসারিজ কোড অ্যাডজুডিকেটর’ (জিসিএ) প্রতিষ্ঠিত হয়।

জিসিএর কাঠামোয় তিনটি উপাদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনুকরণযোগ্য। প্রথমত, এটি শুধু বার্ষিক টার্নওভার এক বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি এমন খুচরা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রযোজ্য—অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নির্দিষ্ট, সম্পদের অপচয় নয়। দ্বিতীয়ত, জিসিএর তহবিল আসে নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধার্য লেভি থেকে, সরকারি বাজেটের ওপর নয়। তৃতীয়ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? কারণ প্রথম অ্যাডজুডিকেটরের মেয়াদের শুরুর দিকে টেলিফোন প্রায় নীরব ছিল—সরবরাহকারীরা প্রতিশোধের ভয়ে অভিযোগ জানাতে অনিচ্ছুক ছিলেন। এই একই সমস্যা সিপিডির গবেষণায়ও প্রতিফলিত হয়েছে: প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা অংশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সিন্ডিকেট, করসংক্রান্ত উদ্বেগ ও চলমান ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কারণে ব্যবসায়ীরা প্রশ্নের জবাব দিতে অনিচ্ছুক বা এড়িয়ে গেছেন। এটি কাকতালীয় নয়, এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের আড়তদার-খুচরা সম্পর্কেও একই ধরনের ক্ষমতার অসাম্য বিদ্যমান, যেখানে নিচের স্তরের অংশীজনরা প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান।

তবে যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও আসে। জিএসসিওপি শুরুতে শুধু খুচরা প্রতিষ্ঠানের ‘সরাসরি সরবরাহকারীদের’ সুরক্ষা দিত—প্রকৃত কৃষকদের নয়, যারা সাধারণত মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে বিক্রি করেন। তাই জিসিএর সরাসরি সুরক্ষার আওতার বাইরে থেকে যান। এই ফাঁক পূরণ করতে ২০২০ সালের কৃষি আইনের ২৯ ধারায় সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়, যাতে প্রাথমিক কৃষি উৎপাদন ক্রেতাদের ওপরও ন্যায্য লেনদেনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যায়। কারণ, প্রাথমিক উৎপাদনকারীরাই অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার প্রতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, অথচ তারা প্রায়ই সুরক্ষার বাইরে থাকেন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই শিক্ষাটি সরাসরি প্রযোজ্য: সিপিডির উপাত্ত দেখায় যে, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আলু, বেগুন, কাঁচামরিচ—প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রেই কৃষক ও খুচরা বিক্রেতার মাঝে অন্তত তিন থেকে চারটি মধ্যবর্তী স্তর (ফড়িয়া/বেপারি, আড়তদার, পাইকার, মিল) বিদ্যমান। কোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামো যদি শুধু ‘সরাসরি সরবরাহকারী-ক্রেতা’ সম্পর্ককে লক্ষ্য করে, তাহলে তা কৃষককে সুরক্ষাহীন রেখে দেবে, ঠিক যেমনটা যুক্তরাজ্যে ঘটেছিল এবং শোধরাতে এক দশক লেগেছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের মডেল: ন্যূনতম তালিকাভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা ও বার্ষিক স্বচ্ছতা

২০১৯ সালে ইউরোপীয় সংসদ ও কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত নির্দেশনা ২০১৯/৬৩৩ কৃষি ও খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা নিয়ন্ত্রণের একটি ভিন্ন কিন্তু পরিপূরক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। এই নির্দেশনায় ১৬টি নির্দিষ্ট অন্যায্য চর্চার একটি ন্যূনতম তালিকা দেওয়া আছে, যা সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে নিষিদ্ধ করতে হবে—যেমন অবিক্রীত পণ্য সরবরাহকারীকে ফেরত দিয়ে অর্থ পরিশোধ না করা, শেলফে জায়গা পাওয়ার জন্য সরবরাহকারীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করা, প্রচারণা বা বিজ্ঞাপনের খরচ সরবরাহকারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া, স্বল্প সময়ের নোটিশে অর্ডার বাতিল করা। প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রকে একটি নির্দিষ্ট প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দিতে হয় এবং প্রতি বছর ১৫ মার্চের মধ্যে ইউরোপীয় কমিশনে একটি জাতীয় প্রতিবেদন জমা দিতে হয়, যাতে আইন প্রয়োগের ফলাফল ও উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত থাকে। এ ছাড়া কমিশনের যৌথ গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি অধিদপ্তর প্রতি বছর সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে একটি জরিপ পরিচালনা করে, যার ফলাফল প্রকাশ্যে পাওয়া যায়।

এই মডেলের মূল শক্তি হলো এর সরলতা ও পরিমাপযোগ্যতা ‘কারসাজি’ বা ‘সিন্ডিকেটে’র মতো বিমূর্ত অভিযোগ প্রমাণ করার চেয়ে একটি সুনির্দিষ্ট, তালিকাভুক্ত আচরণবিধি প্রয়োগ ও প্রমাণ করা অনেক সহজ। সিপিডির প্রতিবেদনে খামারের প্রান্তে ‘কমিশন প্রদান’ পেঁয়াজ, বেগুন, কাঁচামরিচ, মাছ ও গরুর মাংসের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে, কিন্তু এই কমিশনের হার, স্বচ্ছতা বা যৌক্তিকতা নিয়ে কোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামো নেই। ইইউর মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশ যদি একটি ‘ন্যূনতম নিষিদ্ধ চর্চার তালিকা’ তৈরি করে—যেমন খামার পর্যায়ে অঘোষিত বা অসম্মত কমিশন কর্তন, ওজনে কারচুপি, নগদ অর্থ প্রদানে অন্যায্য বিলম্ব এবং প্রতিটি জেলার বাজার কমিটিকে বার্ষিক প্রতিবেদন জমাদানে বাধ্য করে, তাহলে প্রয়োগযোগ্যতা এবং স্বচ্ছতা উভয়ই বাড়বে।

ভারতের অভিজ্ঞতা: সংস্কারের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ থেকে শেখা

ভারতের কৃষি বিপণন ব্যবস্থার ইতিহাস বাংলাদেশের জন্য সতর্কতামূলক শিক্ষা বহন করে। ১৯৬০ এর দশকে কৃষকদের সুরক্ষা দেওয়ার সদুদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কৃষি উৎপাদন বিপণন কমিটি (এপিএমসি) মান্ডি ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেই একটি বাধায় পরিণত হয়—বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম, পৃথক মান্ডি ফি ও লাইসেন্সিং প্রয়োজনীয়তা আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে বাধা তৈরি করে এবং প্রতিটি ধাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের মূল্য আহরণের সুযোগ করে দেয়; কৃষক ও ক্রেতা উভয়কেই একাধিক পয়েন্টে মোট প্রায় ১০ শতাংশ ফি ও কমিশন দিতে হতো। এই সমস্যা সমাধানে ২০১৬ সালে চালু হওয়া ই-ন্যাম (e-NAM) দেশজুড়ে এপিএমসি মান্ডিগুলোকে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য আবিষ্কার এবং কৃষকের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ইলেকট্রনিক পরিশোধ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে। আজ ১৮টির বেশি রাজ্যের ১ হাজার চারশটির বেশি মান্ডি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত। কিন্তু ফলাফল মিশ্র। কৃষি বিপণন সাংবিধানিকভাবে রাজ্য তালিকার বিষয় হওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত এবং আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যের প্রকৃত পরিমাণ এখনও মোট লেনদেনের মাত্র ০.১৬ শতাংশ, যা দেখায় প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম একা কাঠামোগত ও আইনি বাধা অপসারণ করতে পারে না। আরও নাটকীয়ভাবে, ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার তিনটি কৃষি আইন পাস করে এপিএমসির বাইরে অবাধ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিল, কিন্তু পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যে ব্যাপক কৃষক আন্দোলনের মুখে ২০২১ সালের নভেম্বরে আইনগুলো প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়—কৃষকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে এপিএমসি ব্যবস্থা দুর্বল হলে তারা করপোরেট শোষনের মুখোমুখি হবেন। এই ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সত্য উন্মোচন করে: মধ্যস্বত্বভোগী স্তর বাতিল করার চেষ্টা—এমনকি ভালো উদ্দেশ্যেও—রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর হতে পারে, যদি বিকল্প প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা একই সঙ্গে না দেওয়া হয়। এখানেই সিপিডির অবস্থান বিচক্ষণ—প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে বলেছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা সহজাতভাবে সমস্যা নয়; সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রকৃত সেবা প্রদানকারী মধ্যস্থতাকারীদের বহাল রাখা উচিত, কিন্তু প্রতিযোগিতা বাড়ানো উচিত।

বাংলাদেশের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব: গোপনীয়তা-সুরক্ষিত বাজার-ন্যায্যতা নিরীক্ষক

এই তিনটি অভিজ্ঞতা একত্র করলে বাংলাদেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট, বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামোর রূপরেখা পাওয়া যায়, যা সিপিডির সাধারণ সুপারিশের চেয়ে অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট। প্রথমত, প্রতিযোগিতা কমিশনের অধীনে বা স্বতন্ত্রভাবে একটি ‘পাইকারি বাজার ন্যায্যতা নিরীক্ষক’ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যার এখতিয়ার শুরুতে ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজারসহ দেশের বৃহত্তম আড়ত-কেন্দ্রিক পাইকারি বাজারগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে—ঠিক যেমন জিসিএ শুরুতে শুধু বৃহত্তম খুচরা চেইনগুলোকে লক্ষ্য করেছিল। দ্বিতীয়ত, ইইউর ১৬-দফা তালিকার আদলে একটি স্পষ্ট, তালিকাভুক্ত নিষিদ্ধ চর্চার তালিকা তৈরি করা দরকার, যাতে ‘কারসাজি’ প্রমাণের অস্পষ্টতার বদলে নির্দিষ্ট আচরণ প্রমাণযোগ্য হয়। তৃতীয়ত, এবং সবচেয়ে জরুরি—অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখার সংবিধিবদ্ধ নিশ্চয়তা দিতে হবে, কারণ সিপিডির নিজস্ব গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের বাজার অংশীজনরা প্রতিশোধের ভয়েই তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছুক। চতুর্থত, ভারতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যে কোনো সংস্কার প্রক্রিয়ায় কৃষক ও ছোট আড়তদারদের বিকল্প সুরক্ষা একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, নয়তো রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে সংস্কার ভেস্তে যাবে। সবশেষে, ইইউর মতো বার্ষিক, প্রকাশ্য জরিপ ও প্রতিবেদন প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা উচিত, যাতে গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অগ্রগতি বা অবনতি পরিমাপ করতে পারেন। আজ বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো নিয়মিত, প্রাতিষ্ঠানিক উপাত্তভিত্তিক প্রতিবেদন নেই; সিপিডির এই গবেষণাটিই এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম, নিয়ম নয়।

মধ্যস্বত্বভোগী দূর করা যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কিংবা ভারত—কোথাও লক্ষ্য ছিল না এবং হওয়াও উচিত নয়। লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা প্রকাশ্যে আনা, প্রমাণযোগ্য মানদণ্ডে রূপান্তরিত করা এবং যারা সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে আছেন—কৃষক ও ছোট খুচরা বিক্রেতা—তাদের প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই সত্য বলার সুযোগ তৈরি করা। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এখন প্রশ্ন সিপিডির উপাত্ত বিশ্বাস করা বা না করা নয়; প্রশ্ন হলো, এই উপাত্তকে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপান্তরিত করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা আছে কি না।

লেখক: উন্নয়নকর্মী ও গবেষক