Advertisement

পাঁচ বছর ধরে হিমঘরে মরদেহ, সঙ্গে ভারতীয় এনআইডি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
পাঁচ বছর ধরে হিমঘরে মরদেহ, সঙ্গে ভারতীয় এনআইডি
হিমঘরে মরদেহ ও ইনসেটে এনআডিতে থাকা ছবি-স্বাক্ষর। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) হিমঘরে পাঁচ বছর ধরে পড়ে আছে একটি মরদেহ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরেছে। আইনি জটিলতায় মরদেহটি হস্তান্তর কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয়নি বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তারপর থেকে দীর্ঘ ৫ বছর প্রবীর মন্ডলের মরদেহ হিমঘরে পড়ে আছে।

তখন ওই ব্যক্তির সঙ্গে একটি ভারতের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া যায়। যেখানে উল্লেখ রয়েছে তার নাম প্রবীর মন্ডল। ঠিকানা লেখা আছে–পশ্চিমবঙ্গের নিমচা মৈত্রী স্ট্রিট। বিষয়টি জানার পর ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর রংপুর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে। পাঁচ বছরেও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) হিমঘরের দায়িত্বে থাকা এক ডোম নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে জানান, বৈদ্যুতিক বিপর্যয়সহ নানা কারণে মরদেহটি পচন ধরতে শুরু করেছে। এখন অবস্থা এমন যে মরদেহটি পুরোপুরি বিকৃত হয়ে গেছে।

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধান বলছে, প্রবীর মন্ডল ২০২১ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশে আসেন। এর দুই মাস আগে তার সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। সেই সূত্র ধরে তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে আসেন তিনি।

ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা এনআইডি।
ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা এনআইডি।

সেখানে এক বন্ধুর বাড়িতে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন প্রবীর মন্ডল। পরে তাকে তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল বসুনিয়া বলেন, মরদেহটি এখনও হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। মরদেহে পচন ধরেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল মোকাদ্দেম বলেন, পুলিশের অনুরোধে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে। পুলিশ যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখন মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এত দীর্ঘ সময় ধরে একটি মরদেহ হিমঘরে পড়ে থাকা কোনোভাবে কাম্য নয়।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, প্রবীর মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত মরদেহ নিতে আগ্রহ দেখায়নি। বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :রংপুর