স্ত্রীর কবর খুঁড়তে মিলল ২৪ বছর আগে দাফন করা স্বামীর অক্ষত মরদেহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা এক ব্যক্তির মরদেহ কাফনের কাপড়সহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। স্ত্রীকে স্বামীর পাশেই দাফনের জন্য কবর খননের সময় এ ঘটনা সামনে আসে।
শনিবার (১ আগস্ট) ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার উপজেলার নাথের পেটুয়া ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামের দিঘিরপাড় এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, উলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী প্রায় দুই দশক আগে মারা গেলে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। সম্প্রতি তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মারা গেলে ছেলে কামাল হোসেন বাবার কবরের পাশে মায়ের দাফনের জন্য কবর খনন করেন। খননের এক পর্যায়ে রমজান আলীর মরদেহ ও কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেকেই ঘটনাটি নিজ চোখে দেখতে সেখানে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ ইমরান ভূঁইয়া বলেন, আমি নিজ চোখে দেখেছি এবং জানাজার নামাজে অংশগ্রহণ করেছি। রমজান আলী সৎ, বিনয়ী ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি হাটবাজারে চাল-আটা বিক্রি করতেন এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন।
কবর খননকারী খোকন বলেন, কবর খুঁড়তে গিয়ে দেখি কাফনের কাপড়সহ মরদেহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। পরে আশপাশের সবাইকে ডেকে বিষয়টি দেখাই। সবাই এসে দেখেছে। আল্লাহর হুকুম ছাড়া এমন কিছু হওয়ার নয়।
রমজান আলীর ছেলে কামাল হোসেন বলেন, কবর খননের সময় বাবার মরদেহ ও কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত দেখতে পাই। পরে বাবার কবরের পাশে মায়ের দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করি।
উলুপাড়া জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের ইমাম হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার জীবনে এমন ঘটনার সাক্ষী এই প্রথম হলাম। আল্লাহর বিশেষ প্রিয় বান্দা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি একজন আল্লাহওয়ালা মানুষ ছিলেন। তার স্ত্রীর জানাজার নামাজ পড়িয়ে আমি মানসিকভাবে গভীর তৃপ্তি ও প্রশান্তি অনুভব করেছি।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয়াংকা চক্রবর্তী এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। এত দীর্ঘ সময় মরদেহ কীভাবে সংরক্ষিত থাকল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে হলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে এত বছর পর এ ধরনের ঘটনা আমি আগে শুনিনি।
.png)







