Advertisement

চট্টগ্রামের নতুন মাস্টারপ্ল্যান: খসড়া প্রস্তুত, ৬০ দিনের গণশুনানি শুরু রোববার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের নতুন মাস্টারপ্ল্যান: খসড়া প্রস্তুত, ৬০ দিনের গণশুনানি শুরু রোববার
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম শহরের দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যানজট, জলাবদ্ধতা ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন রোধে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ২৫ বছর মেয়াদি ‘চট্টগ্রাম মেট্রেপলিটন মাস্টারপ্ল্যান’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নাগরিকদের মতামত, আপত্তি ও প্রস্তাব নেওয়ার জন্য রোববার (২ আগস্ট) থেকে ৬০ দিনব্যাপী উন্মুক্ত গণশুনানি ও মতবিনিময় কার্যক্রমের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

শনিবার সিডিএর হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জনান সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত বলেন, ২০১৫ সাল থেকে ২০৫০ সাল মেয়াদি এই মাস্টারপ্ল্যানটিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকা এবং এর সংলগ্ন উপজেলার নগরায়নশীল অংশসহ মোট ১ হাজার ২৫৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার ও জিওবি অনুদানে মোট ৮৭ কোটি ৫৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। যার ভৌত অগ্রগতি ৮৭ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৯.৩৭ শতাংশ।

প্রকল্পের খসড়া প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম শহরের ওপর চাপ কমাতে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনার প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শহর সম্প্রসারণে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ধারণার ভিত্তিতে পতেঙ্গা, আনোয়ারা, বাকলিয়া ও চরাঞ্চলের জন্য পৃথক উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে নতুন সড়ক নির্মাণ, বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং নতুন খাল পুনঃখনন করার পরিকল্পনা আছে সিডিএর। এ ছাড়াও পাহাড় ও জলাশয় সংরক্ষণে আলাদা গুরুত্ব প্রদান।

প্রকল্পের খসড়ার ওপর মতামত দিতে ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চতুর্থ তলার চউক হল রুমে সরাসরি উপস্থিত হয়ে খসড়া প্রতিবেদন ও মানচিত্র পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এ ছাড়া দূরবর্তী নাগরিকরা সিডিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.cda.gov.bd) এবং Web GIS-এর মাধ্যমেও মতামত দেওয়া হবে।

সিডিএ কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বাস্তবমুখী পরিকল্পনা শুধু বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি হতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দারা ভালো জানেন তাদের এলাকার জলজট, যানজট, খেলার মাঠ বা স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি কোথায়। তাই কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, জনগণের যৌক্তিক মতামত ও সংশোধনীগুলো যাচাই-বাছাই করেই চূড়ান্ত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।