সড়কের দুরবস্থায় পর্যটক হারাচ্ছে রেমা–কালেঙ্গা

সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেমা-কালেঙ্গা। সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য, গভীর অরণ্যের রহস্যময় সৌন্দর্য এবং প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সড়ক যোগাযোগের বেহাল দশা, আবাসন ও খাবারের সীমিত ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোগত নানা সংকটে প্রত্যাশিত পর্যটক আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে বনাঞ্চলটি।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গহীন অরণ্যে অবস্থিত রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। তবে শেষ সাত কিলোমিটার সড়কের দুরবস্থাই পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে ঢেকে যায় পুরো পথ, আর বর্ষায় কাদায় চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সরু ও জরাজীর্ণ সড়কে যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক পর্যটক আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা করিম মিয়া বলেন, বর্ষাকালে চুনারুঘাটে যাতায়াত করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমরা পিছিয়ে আছি। রেমা-কালেঙ্গায় থাকার কিছু ব্যবস্থা থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থা খুবই খারাপ। দ্রুত সড়ক সংস্কার প্রয়োজন।
প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার একর আয়তনের এই বনাঞ্চলে রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ অসংখ্য সরীসৃপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী। বনজুড়ে রয়েছে সুউচ্চ বৃক্ষরাজি, মনোরম ট্রেইল, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার এবং প্রাকৃতিক লেক। পর্যটকদের জন্য কটেজের ব্যবস্থা থাকলেও মানসম্মত খাবারের হোটেল কিংবা প্রয়োজনীয় পর্যটনসেবা এখনো গড়ে ওঠেনি। আশপাশে বড় কোনো বাজার না থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, একবার কোনো পর্যটক এখানে এলে প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হন। কিন্তু রাস্তা ও আবাসন সমস্যার কারণে দ্বিতীয়বার আসতে চান না। বিগত সরকারের আমলে হবিগঞ্জে পর্যটনমন্ত্রী থাকলেও রেমা-কালেঙ্গার দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
শুধু পর্যটন নয়, বন সংরক্ষণেও রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। বিশাল এই বনাঞ্চল রক্ষায় চারটি বিট অফিস থাকলেও বনরক্ষীর সংখ্যা মাত্র ২৪ জন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। নেই পর্যাপ্ত যানবাহন, আধুনিক সরঞ্জাম কিংবা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা। একসময় বনদস্যু ও গাছচোরদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত ছিল রেমা-কালেঙ্গা। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বন রক্ষার উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অবৈধ কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
রেমা-কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল এটি। পর্যটক কম আসার প্রধান কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা। পাশাপাশি থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবারও ঘাটতি রয়েছে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটনসেবা উন্নত করা গেলে এখানে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।





