কক্সবাজারে চাকরি মেলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলেন ১৩২ জন

কক্সবাজারে চাকরি মেলায় প্রাথমিকভাবে ১৩২ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুয়োগ পেয়েছেন। নির্বাচিতদের মধ্যে ৭৩ জন পুরুষ এবং ৫৯ জন নারী।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগী সংস্থা বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপলস সেলফ ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে রেইজ প্রকল্পের আওতায় সোমবার (২২ জুন) শহরের পাবলিক লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়।
‘ক্ষুদ্র উদ্যোগে মানব সক্ষমতা বৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত মেলায় মোট ৩৪২ জন চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ১৩২ জনকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপলস সেলফ ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রুহি দাসের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আজহার উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপক ও রেইজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম জিলানী এবং কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাহানারা ইসলাম।
মেলায় ওয়ালটন, বিডিজবস ডটকম, হোটেল গ্র্যান্ড প্যাসিফিক, প্রাণ-আরএফএল, হ্যামকোসহ হস্তশিল্প খাতের মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আজহার উদ্দিন বলেন, রেইজ প্রকল্পের মতো কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগ যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর খাতে শিক্ষানবিশি কর্মসূচি তরুণদের জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথি গোলাম জিলানী বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনে এ ধরনের জব ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে রুহি দাস বলেন, প্রশিক্ষিত যুবকদের উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বাস্তব সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করছে। চাকরি মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হচ্ছে, যা বেকারত্ব হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের রেইজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মো. জহিরুল ইসলাম, বাস্তব সংস্থার সহকারী প্রধান নির্বাহী রঞ্জিত চন্দ্র দাস, হেড অব অডিট রুস্তম আলী মোল্লা, রেইজ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর মো. রেজওয়ান ইসলামসহ প্রকল্প ও সংস্থার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা জানায়, রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে গুরু-শিষ্য মডেল ব্যবহার করে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে ট্রেডভিত্তিক কারিগরি ও জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিকেএসএফের ৯০টি সহযোগী সংস্থা দেশব্যাপী অনুরূপ চাকরি মেলার আয়োজন করবে।






