কর্মচারীদের বাধায় ভেস্তে গেল পৌরসভার ২৪ কর্মচারী নিয়োগ

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তীব্র বিরোধিতায় ২৪ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে গেছে। পৌরসভার আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত গোপনে এই নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ পৌর প্রশাসক ও সচিবের বিরুদ্ধে। এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর এখন এ নিয়ে পৌর প্রশাসক ও সচিবের মধ্যে চরম কাদা-ছোড়াছুড়ি ও তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভাঙ্গুড়া পৌরসভা প্রথম শ্রেণির (এ ক্যাটাগরি) মর্যাদা পায়। প্রথম শ্রেণির নিয়ম অনুযায়ী এই পৌরসভায় মোট ৬৪টি স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ রয়েছে। বর্তমানে পৌরসভায় ৪০ জন স্থায়ী এবং ২৫ জন অস্থায়ী (ঝাড়ুদার ও ট্রাফিক) কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে পৌরসভার নিজস্ব অর্থনৈতিক সক্ষমতা না থাকায় পূর্বের মেয়ররা বাকি ২৪টি শূন্য পদে নতুন করে কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেননি।
অভিযোগ উঠেছে, দুই মাস আগে পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান এবং পৌরসভার সচিব মো. মনছুর আলম অত্যন্ত গোপনে ওই ২৪টি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নিয়োগের ছাড়পত্র পেতে গত ১৩ এপ্রিল পৌরসভার প্রশাসক সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদনও করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ (পৌর-১ শাখা) গত ২১ মে পৌরসভার আটটি বিষয়ে আর্থিক সক্ষমতাজনিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠায়।

মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব ও তথ্য সংগ্রহ করার সময় গোপনে নতুন কর্মচারী নিয়োগের এই উদ্যোগের বিষয়টি জানতে পারেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান আয়েই পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে এই সংকট আরও বাড়বে। এমন দুরবস্থার মধ্যে নতুন করে আরও ২৪ জন নিয়োগ পেলে সবার বেতন-ভাতা নিয়মিত পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এই আশঙ্কায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একতাবদ্ধ হয়ে নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা শুরু করলে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ার পর এ নিয়ে প্রশাসক ও সচিব একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। পৌরসভার সচিব মো. মনছুর আলম অভিযোগ করে বলেন, কর্মচারী নিয়োগের মূল উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রশাসক মহোদয়। কিন্তু এখন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরোধিতায় ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় তিনি সমস্ত দায় আমার ওপর চাপাচ্ছেন। উল্টো আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন এবং দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করার হুমকি দিচ্ছেন।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান জানান, পৌরসভার সচিব মূলত নিজের প্রতিবন্ধী ছেলেকে চাকরি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নিয়োগের ফাঁদ পেতেছিলেন। রুটিন কাজের ফাইলের মধ্যে তিনি অত্যন্ত চালাকির সঙ্গে নিয়োগের ছাড়পত্র পাওয়ার এই আবেদনটিতে আমার স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিলেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে সচিবকে শোকজ করা হয়েছে।






