বিদ্যালয়ে মদ্যপ অবস্থায় থাকা সেই প্রধান শিক্ষকের এমপিও স্থগিত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নুকালী বহুপার্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে মদ্যপ অবস্থায় অশোভন আচরণের ঘটনায় প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তার এমপিও স্থগিত করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার এমপিও স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নুকালী বহুপার্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অশোভন আচরণ ও অসংলগ্ন কথা বলতে দেখা গেছে।
আরও বলা হয়, তার এ ধরনের আপত্তিকর, অনৈতিক এবং আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড শিক্ষক সমাজের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। সেই সঙ্গে এটি ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং সাধারণ মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে, যা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের চাকরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণের শামিল।
এ অবস্থায় প্রধান শিক্ষকের এমন আপত্তিকর ও শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের জন্য স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের চাকরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী তাৎক্ষণিক তাকে বরখাস্তকরণ এবং জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৮.১.গ ধারা অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এমপিও স্থগিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে রোববার (৫ জুলাই) থেকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের নুকালী বহুপার্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদকে।
শনিবার উচ্চবিদ্যালয়টির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের সই করা এক অফিস আদেশে তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহজাদপুরের নুকালী বহুপার্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষকের মদ্যপ অবস্থায় মাতলামির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, রুহুল আমিন নিজ কক্ষে চেয়ারে বসে মাতলামি করছেন। ওই সময় বিদ্যালয়টিতে এইচএসসি পরীক্ষা চলছিল।
পরে খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হন। তাদের দেখে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘মদ আমি দীর্ঘদিন ধরেই খাই। হয়তো কেও আপনাদের খবর দিছে। আপনাদের কাছে মাফও চাই, দোয়াও চাই, আপনারা বসেন।’
একপর্যায়ে খবর পেয়ে স্বজনরা এসে প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে বাড়িতে নিয়ে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম সেখ প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে শোকজ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রুহুল আমিন দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের পাশেই তার বাড়ি হওয়ায় পারিবারিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন। আগেও তিনি বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসে মদপান ও অস্বাভাবিক আচরণ করেছেন। তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।





