দেশে ৬০ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

দেশের অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই উল্লেখ করে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একটি জেলায় ১ হাজার ১২২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৩৩টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় অনেক শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুযোগ না পেয়েই অবসরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় অডিটোরিয়ামে উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে পরিবর্তনের কথা দেন মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষক সংকট, অকার্যকর বদলি ব্যবস্থা, দুর্বল মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শিক্ষার মানের অবনতি দেশের শিক্ষা খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা দূর করে একটি কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে পিছিয়ে পড়েছে। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান অবস্থাকে ‘রিয়ার ভিউ মিররে তাকিয়ে রিভার্স গিয়ারে গাড়ি চালানোর’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ৫৪ বছর ধরে আমরা পেছনের দিকে তাকিয়েই চলেছি। এখন সময় এসেছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এবং ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার।
শিক্ষক বদলি ব্যবস্থার দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অন্যান্য প্রভাবের কারণে বহু শিক্ষক গ্রামীণ বিদ্যালয় থেকে শহরমুখী হয়েছেন। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কমিটির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন সরকারের অঙ্গীকার। অতীতের মতো এবারও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে নকল প্রতিরোধ করা হবে। তবে নম্বর প্রদানে অতিরিক্ত উদারতা এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতার কারণে শিক্ষার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে শুধু নম্বর পুনর্গণনা নয়, উত্তরপত্রের মূল্যায়নও যাচাইয়ের সুযোগ রাখা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন পায়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ফারুখে আজম মু. আব্দুস ছালাম। উপস্থিত ছিলেন মো. আবদুল্লাহ হারুন, মো. রেজাউল হক, মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, মিজ হুমে জান্নাত এবং মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মতবিনিময় সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।





