কর্মসংস্থান ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো কাজে লাগে না: শামীম হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন কিছু লোকজনের চাকরি দেওয়া প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শামীম হোসেন বলেছেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কর্মসংস্থান করা ছাড়া অন্য কোনো কাজে লাগে বলে আমি মনে করি না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কিছু বিভাগ খুব ভালো করছে।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা সময় ১০ শতাংশ বিদেশি শিক্ষক ছিলেন ঢাবিতে, তখন শিক্ষার মান যথেষ্ট ভালো ছিল। আমার নিজের ইংরেজি বিভাগে অনেক বিখ্যাত শিক্ষক আছেন যারা অসাধারণ পড়ান; কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদে আমরা যাদেরকে দেখি, আসলে তাদের প্রোফাইল দেখলে হতাশ হতে হয়।
শামীম হোসেনের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় একটা জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছে—সবকিছুকে এখানে রাজনৈতিক মিটারে মাপা হয়। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যদি পড়ার সময় এটা মনে করে যে, আমি যে থিওরিটা শিখছি তা আমার রাজনৈতিক আদর্শের বিপরীত, তাই আমি শিক্ষককে মারব—তাহলে তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার দরকার নেই, বিশ্ববিদ্যালয়টি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীর প্রতিভা ও সম্ভাবনা তিনি নিজ চোখে ধ্বংস হতে দেখেছেন জানিয়ে শামীম বলেন, একটা ছেলে ছারপোকার কামড় খেয়ে এসে আপনাকে বুদ্ধিভিত্তিক আলাপ উপহার দেবে—সেটা তো কল্পনা করা যায় না। ভাত-কাপড়ের ভাবনার সঙ্গে আমাদের চিন্তা শক্তির সম্পর্ক রয়েছে। মরার পরে তিনহাত জায়গা পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী হলে তিনহাত জায়গা পায় না। আমাদের সামাজিক শ্রেণি আমাদের চিন্তার সীমারেখা তৈরি করে। আমরা যারা ছারপোকার কামড় খেয়েছি, আমাদের চিন্তা থাকে একটা বিসিএস ক্যাডার হওয়া। কারণ, আমি এই কষ্টকর জীবন চাই না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটা উদ্বাস্তু প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে শামীম হোসেন আরো বলেন, দেখা যাচ্ছে এখানে একটু ঢাবি, ওখানে একটু ঢাবি—ওর নিজেরই কোনো সুনির্দিষ্ট এরিয়া নাই। আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকে দেখি, এটি ছিল এশিয়ার প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। জমির অফিসে গিয়ে চেক করে দেখবেন আশেপাশের সব জমি ঢাবির নামে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বানানোর জায়গা নাই। এভাবে ঢাবিকে পদে পদে শোষণ করেছে রাষ্ট্র।
শামীম হোসেনের মতে, শিক্ষক রাজনীতি এখানে আরেকটা বড় সংকট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান নয়? একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হন, তবে তো বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হওয়া উচিত ছিল প্রধানমন্ত্রীর। বিশ্ববিদ্যালয়কে সবসময় রাজনৈতিক আধিপত্যের বাইরে থাকা উচিত বলেও অভিমত শামীম হোসেনের।






