Advertisement

‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অক্সফোর্ডের পথে সাইদ মাহমুদ

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
‎রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অক্সফোর্ডের পথে সাইদ মাহমুদ
সাইদ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

‎দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন বাংলাদেশের তরুণরা। সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী সাইদ মাহমুদ। মেধা, অধ্যবসায় ও মানবিক কাজের সমন্বয়ে তিনি অর্জন করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে পড়ছেন সাইদ মাহমুদ। শৈশব থেকেই ছিলেন মেধাবী ও স্বপ্নবান। প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিটি পাবলিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পান। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

সাইদের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার পরিবারের। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা তাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাহস হারাতে দেননি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা সন্তানের শিক্ষা ও মানবিক বিকাশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন।

শুধু পরিবার নয়, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা, বন্ধুদের সহযোগিতা এবং আশপাশের মানুষের বিশ্বাসও সাইদের পথচলাকে আরও শক্তিশালী করেছে। সাইদ মনে করেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই তাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জুগিয়েছে।

পড়াশোনার পাশাপাশি কৈশোর থেকেই স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন সাইদ মাহমুদ। শিশু অধিকার, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন ‘চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। সংগঠনটির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা সংগঠনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তার এই পথচলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ২০২১ সালে ৭৬তম ইউএনজিএ সায়েন্স সামিটে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শিশু হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া। সেখানে সাইদ মাহমুদ জলবায়ু পরিবর্তন, তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন।

পরে পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সেফ আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফর ম্যান’। সংগঠনটির মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন তিনি। তার ‘স্কুল কফারেন্স অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’ উদ্যোগটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

সাইদ মাহমুদ বলেন, সাফল্যের পথ কখনো সহজ ছিল না। প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম ছিল। কিন্তু বাবা-মায়ের দোয়া, শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা এবং মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছাই আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে অক্সফোর্ডের পথে সাইদ মাহমুদের এই যাত্রা আজ অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার সাফল্য প্রমাণ করে, মেধা, পরিশ্রম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম।