সালমান-শাবনূর পরস্পরকে ভাই-বোন বলে ডাকতেন: নাদের খান

ঢালিউডের ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন সালমান শাহ। মাত্র ২৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়েই নিভে যায় এই উজ্জ্বল নক্ষত্র। তবে ক্ষণজন্মা এই নায়ক অল্প দিনেই জয় করে নেন লাখো ভক্তের হৃদয়। যার ফলে মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও তাকে নিয়ে চর্চা হয়, প্রশংসিত হয় তার কাজ। জীবদ্দশায় সালমান মোট ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন। যার অধিকাংশ ছিল দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসাসফল।
ক্যারিয়ারে এই নায়ক মোট ১১ জন নায়িকার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৪টি সিনেমায় তিনি জুটি বাঁধেন চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে। তৎকালীন ঢাকাই চলচ্চিত্রে তাদের সবচেয়ে সফল রোমান্টিক জুটি মনে করা হতো। পর্দায় চমৎকার রসায়নের কারণে একসময় এই জুটিকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয়। যা নিয়ে তখনকার গণমাধ্যমে নানা খবরও প্রকাশিত হয়। সেই গুঞ্জন নিয়ে এবার মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক নাদের খান।
সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে জানতে চাইলে ইন্ডাস্ট্রির এই গুণী ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘সালমান শাহ দারুণ একজন মানুষ ছিলেন। এমন একজন নায়ক আমরা আর পাব না। ওর আচরণে আমি মুগ্ধ। সালমান সবাইকে সম্মান করতো। তার সঙ্গে আমার কাজের অভিজ্ঞতা আছে। ও আমাকে মামা বলে ডাকতো। এসব স্মৃতি ভোলার নয়, মনে পড়লে আজও চোখে পানি চলে আসে।’
প্রেমের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই দুজনের সঙ্গেই অভিনয় করেছি। তাদের নিয়ে যে গুঞ্জন উঠেছিল, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, শুটিং সেটে সালমান-শাবনূর পরস্পরকে ভাই-বোন বলে ডাকতেন।’
১৯৯৪ সালে জহিরুল হক পরিচালিত ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম জুটি বাঁধেন সালমান-শাবনূর। এরপর একে একে ‘সুজন সাথী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’ ও ‘বুকের ভেতর আগুন’-সহ মোট ১৪টি চলচ্চিত্রে জুটি বেঁধে অভিনয় করেন তারা।





