Advertisement

আমাদের শরীর কি মৌসুমি অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
আমাদের শরীর কি মৌসুমি অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে

মৌসুমি অ্যালার্জি বা হে ফিভার অনেকের কাছেই একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও ভুক্তভোগীদের জন্য এটি দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ চুলকানো, শ্বাসকষ্ট—এসব উপসর্গ অনেক সময় কাজ, ঘুম এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে।

বিশ্বজুড়ে শত কোটি মানুষের একটি বড় অংশ কোনো না কোনো ধরনের অ্যালার্জিতে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও অনেক জায়গায় অ্যালার্জির তীব্রতা বাড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন এক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যার লক্ষ্য শুধু উপসর্গ কমানো নয়, বরং শরীরকে ধীরে ধীরে অ্যালার্জির বিরুদ্ধে সহনশীল করে তোলা।

মৌসুমি অ্যালার্জি যেভাবে হয়

অ্যালার্জি মূলত তখনই হয়, যখন শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনো ক্ষতিকর নয় এমন কিছুকে ভুল করে বিপজ্জনক মনে করে। যেমন—ধুলা, পশুর লোম বা পরাগরেণু।

এই ভুল প্রতিক্রিয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বা অ্যাজমার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

নতুন আশা ‘ইমিউনোথেরাপি’

অ্যালার্জির বেশির ভাগ চিকিৎসা উপসর্গ কমানোর দিকে কাজ করে। তবে অ্যালার্জেন ইমিউনোথেরাপি নামে একটি পদ্ধতি ভিন্নভাবে কাজ করে। এটি ধীরে ধীরে শরীরকে নির্দিষ্ট অ্যালার্জেনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়।

এই চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনভাবে পরিবর্তিত হয়, যাতে আগে যেটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া হতো, সেটিতে ধীরে ধীরে প্রতিক্রিয়া কমে আসে।

কীভাবে কাজ করে এই চিকিৎসা

ইমিউনোথেরাপি দুইভাবে দেওয়া হয়:

  • ইনজেকশনের মাধ্যমে
  • জিবের নিচে ড্রপ বা ট্যাবলেট আকারে

জিবের নিচে দেওয়া চিকিৎসাটি তুলনামূলক নিরাপদ এবং সহজ বলে বর্তমানে এটি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত অ্যালার্জেনের ক্ষুদ্র মাত্রা শরীরে দেওয়া হয়।

ফলস্বরূপ, শরীর ধীরে ধীরে সেই উপাদানের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং অ্যালার্জির তীব্রতা কমে।

কতটা কার্যকর

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত এই চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে উপসর্গের উন্নতি অনুভব করেন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করার পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এর উপকার পাওয়া যায়।

এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এটি অ্যাজমা হওয়ার ঝুঁকিও কমাতে সাহায্য করতে পারে।

চ্যালেঞ্জ

এই চিকিৎসার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিয়ম মেনে দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া। সাধারণত কয়েক মাস আগে থেকে শুরু করে টানা কয়েক বছর পর্যন্ত চিকিৎসা নিতে হয়।

এ ছাড়া সব ধরনের অ্যালার্জির জন্য এই চিকিৎসা এখনো সহজলভ্য নয়।

অন্যান্য চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়

যারা এই চিকিৎসা নিতে পারেন না বা প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধা পান না, তাদের জন্য কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে:

  • অ্যান্টিহিস্টামিন ও নাসাল স্প্রে ব্যবহার
  • অ্যালার্জির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা
  • ঘরের জানালা বন্ধ রাখা
  • বাইরে গেলে মাস্ক বা সানগ্লাস ব্যবহার
  • বাইরে থেকে এসে মুখ, হাত ও চুল পরিষ্কার করা

মৌসুমি অ্যালার্জি অনেক সময় ছোট সমস্যা মনে হলেও, এটি জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এখন শুধু উপসর্গ কমানো নয়, বরং শরীরকে ধীরে ধীরে অ্যালার্জির বিরুদ্ধে সহনশীল করে তোলাও সম্ভব।

সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা এবং নিয়ম মেনে তা চালিয়ে গেলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে স্বস্তি পেতে পারেন। তাই অ্যালার্জিকে অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

সূত্র : বিবিসি