মান্নত করা কি জায়েজ

মান্নত হলো কোনো কিছুর জন্য স্বেচ্ছায় প্রতিজ্ঞা করা। ইসলামি শরিয়তে মান্নত করা জায়েজ। তবে মান্নতের বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
মান্নত দুই ধরনের হতে পারে। এক. কোনো ধরনের শর্ত ছাড়া মান্নত করা। যেমন, আমি দুই রাকাত নামাজ পড়ার মান্নত করছি বা কিছু টাকা সদকা করার মান্নত করছি। এ ধরনের মান্নত করা জায়েজ।
দুই. শর্তযুক্ত মান্নত করা। যেমন- আমি পরীক্ষায় পাস বা অমুক কাজ হাসিল হলে এত টাকা সদকা করব। মান্নতের এই প্রকারের প্রতি হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন, ‘মান্নত এমন কোনো কিছুকে আদম সন্তানের নিকটবর্তী করে দিতে পারে না, যা আল্লাহ তাআলা তার জন্য তাকদিরে নির্দিষ্ট করেননি। তবে মান্নত কখনো তাকদিরের সঙ্গে মিলে যায়। এর মাধ্যমে কৃপণের কাছ থেকে ওই সম্পদ বের করে নিয়ে আসা হয়, যা কৃপণ (এমনিতে) বের করতে চায় না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪০)
কোনো বৈধ বস্তু অর্জনের আশায় মান্নত করা জায়েয আছে। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে মান্নতের চেয়ে নগদ দান-সদকার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি। সদকায় আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হন। আর মান্নত শরিয়তসম্মত নয়।
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাঙ্ক্ষিত বস্তু অর্জনের জন্য মান্নত করা জায়েজ, তবে অনুত্তম। মান্নত করা ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী আগেই দান-সদকা করা অধিক উত্তম কাজ। (সুরা হজ, আয়াত: ২৯; আলইখতিয়ার, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা ৪৪৫; বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৪১)
মান্নত করলে সেটা পূর্ণ করা ওয়াজিব। পবিত্র কোরআন-হাদিসে মান্নত পূর্ণ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তারা মান্নত করার পর তা পূর্ণ করে।’ (সুরা দাহর, আয়াত: ৭)
হাদিসে যে মান্নত পূর্ণ করার কথা এসেছে, তা হচ্ছে ভালো কাজের মান্নত। কোনো গুনাহের কাজের মান্নত নয়। গুনাহের কাজের মান্নত করা সম্পূর্ণ হারাম, তা পূর্ণ করাও হারাম। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে কোনো গুনাহের মান্নত করল, সে যেন গুনাহটি না করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৯৬)
মান্নত ভঙ্গের কাফফারা হলো, শপথভঙ্গের কাফফারার মতো। কাফফারা হলো, দশজন অভাবগ্রস্তকে মধ্যম মানের খাদ্য অথবা বস্ত্র দান করা বা একজন (মুমিন) ক্রীতদাস মুক্ত করা কিংবা তিনদিন (একটানা) রোজা রাখা।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে মান্নত করা জায়েজ। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) মান্নতকে অপছন্দ করতেন। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মান্নত করতে নিষেধ করেছেন। এ নিষেধাজ্ঞা ছিল নিরুৎসাহিত করার জন্য। কারণ, মান্নতকে পাওয়া-না পাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করে দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ অমুক কাজটি করে দিলে বা অমুক কাজটি অর্জন হলে, এত টাকা দেব। এভাবে মান্নত করা উচিত নয়। আল্লাহর রাস্তায় দান-সদকা করে নিজের চাহিদার কথা জানানো হলো ইমানি দায়িত্ব। শর্ত দিয়ে মান্নত করা অনুত্তম কাজ। হারাম নয়।’
.png)






