নাশকতার মামলায় সাবেক এমপি আশিকা সুলতানা ৩ দিনের রিমান্ডে

সংরক্ষিত নারী আসনের (নীলফামারী ৩) সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে মিরপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
মিরপুর থানায় দায়ের করা নাশকতার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার একটি আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করে, গত ১৮ জুন সকালে মিরপুর-১ এলাকার এপেক্স ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেখানে সমবেত হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে মিছিল করেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-সংবলিত একটি পিভিসি ব্যানার জব্দ করা হয়। ব্যানারটিতে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, গৌরব ও ঐতিহ্যের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ এবং ‘ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ’-সংবলিত লেখা ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আল মামুন হোসেন রিমান্ড আবেদনে দাবি করেন, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আশিকা সুলতানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তার নেতৃত্বে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পাশাপাশি তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের অর্থদাতা বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ আদালতকে জানায়, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, মিছিলে অংশগ্রহণকারী ও নেতৃত্বদানকারীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার পেছনে কারা পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেছে। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আশিকা সুলতানাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। তবে শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।






