ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ শরীর ঝাঁকুনি দেয়? জেনে নিন প্রতিকার

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠা বা হঠাৎ লাফিয়ে ওঠার অনুভূতি অনেকেরই পরিচিত। এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘হাইপনিক জার্ক’ বা ‘হাইপনাগোগিক জার্ক’ নামে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জীবনে কোনো না কোনো সময় এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন।
সাধারণত ঘুমিয়ে পড়ার ঠিক যে মুহূর্তে শরীরের পেশিগুলো শিথিল হতে শুরু করে, তখন মস্তিষ্ক তা ভুল বুঝে আচমকা পেশির সংকোচন ঘটায়। ফলে মনে হয় শরীর যেন ‘গ্লিচ’ করছে বা হঠাৎ ঝাঁকুনি দিচ্ছে। যদিও এটি কোনো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, তবে বারবার হলে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
জনপ্রিয় চিকিৎসক ড. জো উইটিংটন ঘুমের মধ্যে শরীরের এই অনৈচ্ছিক ঝাঁকুনি বা ‘গ্লিচ’ কমানোর জন্য তিনটি কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন:
১. ক্যাফেইন ও স্টিমুল্যান্ট গ্রহণ কমানো
সোডা, চা, কফি বা অন্যান্য শক্তিবর্ধক পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন এবং নিকোটিনের মতো উপাদান স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত রাখে। ঘুমানোর আগে এসব উপাদান গ্রহণ করলে তা মস্তিষ্ক ও পেশির স্বাভাবিক শিথিলতা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে, যা হাইপনিক জার্কের অন্যতম কারণ। তাই বিশেষ করে বিকেলের পর থেকে ক্যাফেইনজাতীয় খাবার বা পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
২. ঘুমানোর ঠিক আগে কায়িক পরিশ্রম না করা
নিয়মিত ব্যায়াম ঘুমের জন্য উপকারী হলেও, ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী শারীরিক কসরত বা ওয়ার্কআউট করা উচিত নয়। এটি শরীরে সতর্কতা বাড়ায় এবং মেটাবলিজমকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে শরীর দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে পারে না। মস্তিষ্ক ও শরীরের ঘুমের গতির মধ্যে এই অমিলের কারণেই এই ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। তাই ঘুমানোর অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগেই সব ধরনের শারীরিক কসরত শেষ করা ভালো।
৩. উদ্বেগ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
দৈনন্দিন মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ঘুমের মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগের কারণে ঘুমানোর সময় স্নায়ুতন্ত্র শিথিল হতে পারে না, যা পরবর্তীতে হাইপনিক জার্কের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মেডিটেশন, হালকা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ঘুমানোর আগে বই পড়ার মাধ্যমে মানসিক চাপ কমানো সম্ভব।
ঘুম সংক্রান্ত এই সমস্যাগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং ক্যাফেইন বর্জন ও মানসিক চাপ কমানোর মতো অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই এটি দূর করা যায়। তবে এই ঝাঁকুনির তীব্রতা যদি আপনার নিয়মিত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: ডেইলি মেইল
.png)





