গোসলের পর কোনটি ব্যবহার করবেন, গামছা নাকি তোয়ালে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গোসলের পর কোনটি ব্যবহার করবেন, গামছা নাকি তোয়ালে
ছবি : এআই

গোসলের পর শরীর মুছতে গামছা নাকি তোয়ালে ব্যবহার করবেন, এর নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই। কোনটি আপনার জন্য ভালো হবে, তা নির্ভর করে ত্বকের ধরন, ব্যবহারের অভ্যাস এবং কাপড়টি কতটা পরিষ্কার রাখা হচ্ছে তার ওপর। তাই শুধু প্রচলিত ধারণার ওপর ভরসা না করে দুইটির সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

গোসলের পর শরীর মুছতে কেউ গামছা ব্যবহার করেন, আবার কেউ তোয়ালে। অনেকের ধারণা, গামছা ত্বকের জন্য বেশি ভালো। আবার কেউ মনে করেন, নরম তোয়ালেই সবচেয়ে নিরাপদ। আসলে কোনটি ব্যবহার করা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর একক কোনো উত্তর নেই। আপনার ত্বকের ধরন, ব্যবহারবিধি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপরই নির্ভর করে কোনটি আপনার জন্য বেশি উপযোগী হবে।

গামছার সুবিধা কী?

গামছা সাধারণত পাতলা সুতি কাপড় দিয়ে তৈরি। তাই এটি খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। ভেজা অবস্থায় বেশি সময় না থাকায় এতে জীবাণু ও ছত্রাক জন্মানোর ঝুঁকিও তুলনামূলক কম হতে পারে।

এছাড়া গামছা ধোয়া সহজ এবং বর্ষাকালেও দ্রুত শুকিয়ে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও সহজ।

গামছার অসুবিধা

গামছা তুলনামূলক খসখসে হওয়ায় সংবেদনশীল বা শুষ্ক ত্বকে বেশি ঘষাঘষি করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা বা অস্বস্তি হতে পারে।

বিশেষ করে মুখের ত্বক বা একজিমার মতো সমস্যা থাকলে জোরে ঘষে মুছা উচিত নয়।

তোয়ালের সুবিধা

তোয়ালে সাধারণত নরম ও পুরু হয়। এটি দ্রুত শরীরের পানি শুষে নিতে পারে এবং ত্বকে তুলনামূলক কম ঘর্ষণ সৃষ্টি করে।

যাদের ত্বক শুষ্ক, সংবেদনশীল বা সহজেই লাল হয়ে যায়, তাদের জন্য নরম সুতি তোয়ালে বেশি আরামদায়ক হতে পারে।

তোয়ালের অসুবিধা

তোয়ালে মোটা হওয়ায় সহজে শুকাতে চায় না। দীর্ঘ সময় ভেজা থাকলে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা দুর্গন্ধ তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই একই তোয়ালে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে নিয়মিত ধুয়ে রোদে বা ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোনটি বেছে নেবেন?

তৈলাক্ত ত্বক হলে

গামছা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খুব জোরে ঘষে মুছবেন না। পরিষ্কার গামছা ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বক হলে

নরম সুতি তোয়ালে ভালো বিকল্প। ত্বক ঘষে নয়, আলতোভাবে চাপ দিয়ে মুছে নিন।

মুখের জন্য

শরীরের তোয়ালে বা গামছা দিয়ে মুখ না মুছাই ভালো। মুখের জন্য আলাদা, পরিষ্কার ও নরম তোয়ালে ব্যবহার করলে ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

ত্বকের যত্নে যেসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গামছা না তোয়ালে, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা।

মনে রাখবেন, ব্যক্তিগত গামছা বা তোয়ালে অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি করবেন না এবং নিয়মিত ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে ব্যবহার করুন।

এছাড়া, ভেজা অবস্থায় বাথরুমে দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রাখবেন না।

মুখের জন্য আলাদা তোয়ালে রাখুন এবং ত্বক ঘষে নয়, আলতোভাবে মুছে নিন।

গামছা এবং তোয়ালে, দুটোরই আলাদা সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে দ্রুত শুকিয়ে যায় বলে গামছা সুবিধাজনক হতে পারে। অন্যদিকে শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নরম তোয়ালে বেশি আরামদায়ক। তবে ত্বক সুস্থ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো গামছা বা তোয়ালে ব্যবহার করা এবং শরীর বা মুখ কখনোই জোরে ঘষে না মুছে আলতোভাবে শুকানো। তবেই ত্বক থাকবে পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ।

সূত্র: টিভি ৯