আল–জাজিরার প্রতিবেদন/৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কি বদলে দেবে ইরানকে?

ফেদেরিকা মারসি
৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল কি বদলে দেবে ইরানকে?
ছবি: সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আগামী শুক্রবার একটি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে পারে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন (৩০ হাজার কোটি) ডলারের একটি বিনিয়োগ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তৈরি করা যুদ্ধ বন্ধের একটি বড় সমাধান হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

গত সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, গত রোববার উভয় পক্ষ ডিজিটালভাবে এই চুক্তিতে সই করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত পালনে ইরানের ‘পারফরম্যান্স’ বা ভূমিকার ওপর।

বিনিয়োগের এই বিশাল অংক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এর আগে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ ছিল, ওই চুক্তি তেহরানকে অন্যায্য অর্থনৈতিক সুবিধা দিচ্ছে। তবে এবারের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বড় অংকের টাকা দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে, তা ‘ভুয়া সংবাদ’।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সিবিএস নিউজকে বলেন, এটি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিনিময়ে সরাসরি কোনো অর্থ দেওয়া নয়। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যদি তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং পরমাণু কর্মসূচিতে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমতি দেয়, তবেই তারা বিশ্ব অর্থনীতিতে ফেরার সুযোগ পাবে।’

ভ্যান্সের মতে, এই তহবিলে মার্কিন অর্থ দেওয়া হবে না। বরং ইরান যদি শর্ত মানে, তবে ‘গালফ কোস্ট কোয়ালিশন’ বা উপসাগরীয় জোট এই বিনিয়োগ করবে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তহবিল কোনো দেশের সরকার দেবে না। বরং ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে এই বিশাল তহবিল গড়ে তোলা হবে।

এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইরান পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত এই তহবিলে কাতার কোনো অর্থ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেনি। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই অংকের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স সম্পর্কিত মিডল ইস্ট কাউন্সিলের অন-আবাসিক সিনিয়র ফেলো মুহানাদ সেলুম বলেন, এই পুরো ব্যবস্থাটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি ‘জিত নিশ্চিত’ সমাধান। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান যদি নিজেদের সংশোধন করে, তবে এই শান্তি প্রক্রিয়ার পুরো কৃতিত্ব পাবে মার্কিন প্রশাসন। আর যদি তারা ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লোকসান নেই; কারণ সব আর্থিক ঝুঁকি বহন করবে উপসাগরীয় দেশগুলো।’

ইরানের আটকে থাকা সম্পদ বা ফ্রোজেন অ্যাসেট বিষয়ে সেলুম বলেন, বিনিয়োগ তহবিলের ধারণাটি মূলত সাজানো হয়েছে যাতে ইরানের অর্থ সরাসরি অবমুক্ত করার সমালোচনা বা বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়া যায়। ইরানের ঠিক কত পরিমাণ সম্পদ বর্তমানে আটকে আছে তা স্পষ্ট না হলেও, দেশটির সরকারি প্রতিবেদন ও বিশেষজ্ঞদের মতে এর পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন (১০ হাজার কোটি) ডলারের বেশি।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে দেশটির পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করা হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে তেহরান বিদেশে থাকা নিজস্ব সম্পদ, বিশেষ করে তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ বর্তমানে আটকে আছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৫ সালে সই হওয়া ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরান কিছু নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। ওই চুক্তিতে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ সীমিত করার শর্তে তেহরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে এই চুক্তি বাতিল করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ গত রোববার জানিয়েছে, ১৪ দফার খসড়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় তেহরানের আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার অবমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সিবিএস নিউজ এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে জেডি ভ্যান্স জানান, ২৪ বিলিয়ন ডলারের এই অংকটি ইরানিদের সঙ্গে আলোচিত কোনো নথিতে নেই। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি যে আমরা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা করতে রাজি। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তাদের অর্থনীতির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যদি তারা দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।’

ইরানের জন্য এই বিনিয়োগ তহবিল এখন জীবন বাঁচানোর মতো একটি সুযোগ হতে পারে। চলমান যুদ্ধে দেশটির প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে ইরানের মানুষ ১৯৪২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

তবে মুহানাদ সেলুম মনে করেন, বিষয়টি ইরানের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না। এটি তেহরানের জন্য একটি ‘মর্যাদার সংকট’ তৈরি করবে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘তেহরান একে সার্বভৌম কোনো অধিকার হিসেবে না দেখে শর্তসাপেক্ষ ও নিয়ন্ত্রিত অর্থ হিসেবেই বিবেচনা করবে।’

আগামী শুক্রবার চুক্তি সই হওয়ার পর আরও কিছু অমীমাংসিত ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের ৪৪০ কেজিরও বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগ দূর করা।

এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নষ্ট করা বা সরিয়ে ফেলার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আরও আলোচনা করবে।

জেডি ভ্যান্স জানান, তেহরান তাদের মজুত ইউরেনিয়াম জমা দিতে, নিয়মিত আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ দিতে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা কেনা থেকে বিরত থাকতে রাজি হয়েছে। তবে সমঝোতা স্মারকের পুরো পাঠ এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনার একটি বড় কেন্দ্রবিন্দু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই এই জলপথে একে অপরের ওপর অবরোধ দিয়ে রেখেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার সময় ‘তেল সরবরাহ শুরু হোক!’ লিখে এই জলপথ খোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

তবে সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে, এই জলপথ নিয়ে সব জটিলতা এখনো কাটেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হলো দীর্ঘমেয়াদে কোনো শুল্ক ছাড়াই এই প্রণালি ব্যবহার করা যাবে। কারিগরি আলোচনার মাধ্যমেই আমরা এর সমাধান খুঁজছি।’

লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলাও এই সমঝোতায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। কারণ ইরান শর্ত দিয়েছে যে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তাদের মিত্র লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এমন কোনো শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি যা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তাদের বাধা দেবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গত শুক্রবার স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হোক বা না হোক, লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এই সমঝোতা স্মারক ইরানের জন্য অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরান তাদের সব প্রয়োজনে শুধু এই সুবিধার ওপর নির্ভর করবে না। গত সোমবার ‘প্রেস টিভি’র খবর অনুযায়ী আরাগচি বলেন, ‘আমাদের সামনে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং চুক্তি ছিঁড়ে ফেলার পুরনো ইতিহাস রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক সই হওয়ার পর পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মূল আলোচনা হবে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে কিছু ইরানি পর্যবেক্ষক এই ঘোষণার সময় নিয়ে আপত্তি তুলেছেন, কারণ এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদিনের সঙ্গে মিলে গেছে।

সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে রক্ষণশীল সাংবাদিক পারিসা নাসর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘শহীদ নেতার হত্যাকারীকে জন্মদিনের উপহার দেওয়া কি এই চুক্তির কোনো অলিখিত শর্ত ছিল?’

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। এর মাধ্যমে ‘ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার বিষয়ে আমেরিকার প্রকৃত সদিচ্ছা বাস্তবে পরীক্ষা করা যাবে’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি-সেভেন সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘ন্যায্য’ ও ‘ভালো’ বলে বর্ণনা করেন। তবে তিনি কঠোরভাবে বলেন, এই চুক্তির অধীনে ইরান ‘পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না’, আর যদি রাখে তবে ‘তাদের উড়িয়ে দেওয়া হবে।’

সম্মেলনে অংশ নেওয়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি। আরও অনেক কাজ বাকি আছে। তবে আমরা যদি এই গতি বজায় রাখতে পারি, তবে এই অঞ্চলে অনেক বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে।’

মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধ বন্ধের এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা চুক্তির শর্তগুলো জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি তুলেছেন। আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস বলেন, ‘যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি অবশ্যই টেকসই, কার্যকর ও স্বচ্ছ হতে হবে।’ একে কেবল ‘অস্পষ্ট ঘোষণা’ বা ‘রাজনৈতিক চাল’ হিসেবে দেখা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম রোববার জানান যে তিনি এই চুক্তিতে খুশি, তবে কিছুটা উদ্বিগ্নও। তিনি বলেন, ‘চুক্তিটি নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি আর মার্কিন প্রতিনিধিদের দাবি, এই দুইয়ের মধ্যে তফাত আছে বলে মনে হচ্ছে।’

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের বিশেষজ্ঞ মুহানাদ সেলুম বলেন, দুই পক্ষের এই ভিন্ন ভিন্ন সুর এটাই প্রমাণ করে যে তারা আসলে একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে না। বরং তারা যার যার দেশের জনগণের কাছে এই চুক্তিকে একটি ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যা তারা পুরোপুরি সততার সঙ্গে করতে পারছে না।


লেখক পরিচিতি

আল জাজিরার অনলাইন সংস্করণের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক (সিনিয়র রিপোর্টার) ফেদেরিকা মারসি। বর্তমানে তিনি ইতালি এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে ওই অঞ্চলের রাজনীতি, অভিবাসন ও পরিবেশগত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে নিয়মিত সংবাদ, ফিচার ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন লিখে থাকেন। তার অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনগুলো থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন, পলিটিকো, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং মিডল ইস্ট আই-এর মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।