বিএনপির রাজনীতি কেবলই ‘লোকদেখানো’: নুসরাত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তার দাবি, বর্তমান সরকারের রাজনীতি অনেকটাই ‘পারফরমেটিভ’ বা লোকদেখানো।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ছিল ওই টকশোর বিষয়বস্তু।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালক জানতে চান, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম যে অভিযোগ করেছেন, ‘জুলাই নিয়ে জাতির সঙ্গে বিএনপি গাদ্দারি করছে’ এবং ‘সরকার জুলাই ও গণভোটের চেতনা অস্বীকার করছে’—এমন মন্তব্য করার সময় কি এসেছে?
জবাবে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, বিএনপি বর্তমানে সরকারে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে ভীষণ ‘পারফরম্যাটিভ’। সুন্দর ও পরিপাটি মানেই যে জিনিসটা সৎ, তেমনটা নাও হতে পারে।
তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদাহরণ টেনে বলেন, তাদের পোশাক, ব্যবহৃত ব্র্যান্ড, প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর ব্যাগ, কম প্রোটোকল নেওয়া কিংবা নিজে গাড়ি চালানোর মতো বিষয়গুলো জনস্বার্থের চেয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে বেশি। অথচ এসবের সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক নেই।
নুসরাতের মতে, কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ না থাকলে তিনি কী খাচ্ছেন, কোথায় যাচ্ছেন বা কতটুকু প্রোটোকল নিচ্ছেন—এসব বিষয়কে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রয়োজন নেই। তিনি এ ধরনের প্রবণতাকে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে তুলনা করেন।
এর সাথে ‘জুলাই সনদের’ সম্পর্ক কোথায় জানতে চাওয়া হলে নুসরাত তাবাসসুম বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন বা ভোটের প্রচারণা চালিয়েছিলেন, বর্তমান সংসদ চলাকালে দেখা যাচ্ছে সেগুলো কেবলই ‘নির্বাচনী কৌশল’ ছিল। অর্থাৎ, তারা কাজ করার চেয়ে দেখানোর রাজনীতি বেশি করছেন।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে নুসরাত বলেন, আমরা তো ঘর পোড়া গরু; চার মাস বলতে বলতে কখন ১৪ বা ১৭ বছর পার হয়ে গিয়েছিল, তা বুঝতে বুঝতেই বাংলাদেশের মানুষের মাঠে নামতে ১৭ বছর লেগেছে।
নুসরাত তাবাসসুম আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশ স্বাভাবিক নিয়মে চলছে। একনেক বৈঠক হচ্ছে, বাজেট পাস হচ্ছে, বড় বড় বরাদ্দ আসছে, সংসদ বসছে এবং বিদেশ সফরও হচ্ছে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের যে মূল অঙ্গীকার ছিল, তার পূরণে বিন্দুমাত্র কোনো পদক্ষেপ বা নিশানা কোথাও দেখা যাচ্ছে না।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই অঙ্গীকারটি কেবল বিএনপির একাংশের বা কোনো নির্বাচনপূর্ব সাধারণ প্রতিশ্রুতি ছিল না; এটি ছিল পুরো ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার। ফলে সরকার বা বিএনপির কর্মকাণ্ড দেখে জুলাই নিয়ে গাদ্দারির যে আশঙ্কা বা অভিযোগ নাহিদ ইসলাম করেছেন, তা মোটেও অমূলক নয়।





