স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত, ঘোষণা যে কোনো সময়

আতিক হাসান
স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত, ঘোষণা যে কোনো সময়
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলকে ঢেলে সাজাতে নতুন কমিটি গঠনের জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহের যে কোনো সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ঢাকা জেলা, মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দেন বিএনপি হাইকমান্ড।

বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপির চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী অংশ নেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল আলম মজনু জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান সবার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাচ্ছেন কি না সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন।

সূত্র জানায়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সঙ্গেও এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে উত্তর বিএনপির সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে।

বর্তমান শীর্ষ নেতাদের বিদায়

একই দিনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

সংগঠনের নেতারা জানান, গত শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান। তারা কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিষয়টি দ্রুত দেখার আশ্বাস দিয়ে তাদেরকে বিদায় দেন চেয়ারম্যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজিব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাছাড়া, বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী সংসদ সদস্য হওয়ায় আগের মতো সংগঠনে সময় দিতে পারছেন না। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানও সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করায় সাংগঠনিক কাজে সময় কম দিচ্ছেন। ফলে সংগঠনকে গতিশীল রাখতে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

নতুন কমিটিতে আলোচনায় যারা

নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্র নেতারা। সাধারণ সম্পাদক পদে চমক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। এ ছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন।

যা বলছেন দায়িত্বশীল নেতারা

নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সংগঠনের কমিটি পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যখন উপযুক্ত সময় মনে করবেন, তখনই নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।’

সভাপতি পদপ্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক প্রতিমন্ত্রী— দুজনই সফল। কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাজে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। সে কারণে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে নতুন কমিটি খুবই প্রয়োজন।’

নতুন কমিটি প্রসঙ্গে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বলেন, ‘আমরা যতদিন দায়িত্বে আছি, নিষ্ঠার সঙ্গে তা পালন করে যাব। দল নতুন নেতৃত্ব আনলে আমরা তা স্বাগত জানাব।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

দলীয় সূত্র মনে করছে, এই কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা অনেক সহজ হবে।