জামায়াতের সঙ্গে এক সময় বিএনপির প্রেম ছিল, সংসারও করেছে: মাসুদ কামাল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জামায়াতের সঙ্গে এক সময় বিএনপির প্রেম ছিল, সংসারও করেছে: মাসুদ কামাল
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল। ছবি: সংগৃহীত

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, একসময় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল, এমনকি তারা একসঙ্গে সরকারও পরিচালনা করেছে। তাই বর্তমানে দুই দলের মধ্যে নীতিগত মিল থাকলে বা কোনো ইস্যুতে একই ধরনের অবস্থান নিলে সেটিকে অস্বাভাবিক বা ‘আঁতাত’ হিসেবে দেখার কারণ নেই।

তার মতে, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা মানেই প্রতিটি বিষয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া নয়; বরং ভালো কাজের প্রশংসা এবং ভুলের সমালোচনাই গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্পর্ক, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক জানতে চান, সাম্প্রতিক বাজেট অধিবেশনসহ সর্বশেষ দুটি অধিবেশন পর্যালোচনায় অনেকের কাছে মনে হয়েছে, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের সমঝোতা বা আঁতাত রয়েছে। বিরোধী দল কি শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধিতা করছে?

জবাবে মাসুদ কামাল বলেন, সংসদ কি যুদ্ধক্ষেত্র? সেখানে যদি হাতাহাতি বা মারামারি না হয়, তাহলেই কি বিরোধী দলের ভূমিকা নেই? একজন ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করব, আর খারাপ কাজ করলে সমালোচনা করব। এতে তো কোনো সমস্যা দেখি না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের ইতিহাস নতুন নয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় সংসদে যায়নি। আবার ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বিএনপিও অধিকাংশ সময় সংসদ বর্জন করেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিল বিরোধী দলের কার্যকর উপস্থিতি ছাড়াই পাস হয়েছে।

মাসুদ কামালের ভাষ্য, ২০১৪ সালের পর জাতীয় পার্টিও কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তাদের কাছ থেকে বড় কোনো রাজনৈতিক বিরোধিতা দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যে শুধু মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার অভিযোগ শোনা গেছে। এসব দেখতেই আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখন সেই পুরোনো চিত্র খুঁজে বেড়ানোর চেষ্টা করছি।

বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির প্রেম ছিল, তারা একসঙ্গে সংসারও করেছে। এখন তাদের বিচ্ছেদ হয়েছে। ঠিক বিচ্ছেদ না- এই দুজন দুই ঘরে থাকে। তাদের আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান আছে। তবে আলাদা থাকলেই কি প্রতিটি বিষয়ে মারামারি করতে হবে? তাদের মধ্যে নীতিগত মিলও রয়েছে। তাই কোনো বিল বা নির্দিষ্ট ইস্যুতে একই অবস্থান নিলে সেটিকে অস্বাভাবিক মনে করার কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, এনসিপি হোক কিংবা জামায়াত—তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করতে, প্রতিবাদ জানাতে এবং নিজেদের যুক্তি তুলে ধরতে দেখা যাচ্ছে। আবার সেসবের পাল্টা যুক্তিও আসছে। আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না।

তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শ ও রাজনৈতিক চরিত্র রয়েছে। জামায়াত তাদের আদর্শের বাইরে যাবে না, বিএনপিও যাবে না। তাই অনেক বিষয়ে তাদের অবস্থানের মিল থাকাটা স্বাভাবিক।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংসদে আওয়ামী লীগ থাকলে হয়তো রাজনৈতিক বিতর্কের চিত্র ভিন্ন হতো। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আগের মতোই অনেক বিষয়ে মিল রয়েছে, তাই সংসদেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান সংসদের মূল্যায়ন করতে গিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, আমার কাছে মনে হয়েছে, গত কয়েক বছরের তুলনায়, এমনকি ১৯৯৬ সালের সংসদের তুলনায় বর্তমান সংসদ অনেক বেশি সজীব ও স্পন্দিত। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই সংসদ নিয়ে অসন্তুষ্ট নই।