বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া হাসনাতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: এনসিপি

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের বিভিন্ন মিডিয়া এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শুক্রবার (৩ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান ও বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনে এনসিপি। দলের দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাঠক ও দর্শকদের আস্থা ধরে রাখতে সংবাদমাধ্যমগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মূলধারার কিছু সংবাদমাধ্যম জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং এর নেতাদের নিয়ে চরম অপেশাদারত্ব ও নিয়মিত বিরতিতে সংঘবদ্ধ প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছে। সাংবাদিকতার স্বীকৃত মানদণ্ড উপেক্ষা করে কোনো প্রমাণ ছাড়াই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বের চরিত্রহনন করা হচ্ছে। স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী এনসিপি এমন ঘৃণ্য তৎপরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংবাদমাধ্যম সর্বদা গণস্বার্থের পক্ষে থাকবে বলেই একে ‘গণমাধ্যম’ বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বসুন্ধরা গ্রুপের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের অধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডেইলি সান এবং বাংলানিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নানাবিধ প্রচারণায় লিপ্ত হয়ে গণবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। বিশেষত, এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জাতীয় সংসদে উল্লেখিত সংবাদমাধ্যমগুলোতে গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী দল আওয়ামী লীগের পক্ষে টানা বয়ান তৈরি এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কর্তৃক অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর এই প্রোপাগান্ডা মেশিন আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি উল্লেখ করেছে, প্রমাণাদি ছাড়াই এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ জুলাইয়ের নেতাদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ফলে সংবাদমাধ্যমগুলোর ওপর থেকে সাধারণ পাঠক ও দর্শকদের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের টক-শোগুলোতে আওয়ামী গণহত্যার পক্ষে বয়ান তৈরির মহোৎসব চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ভারতে পলায়নের পর ছাত্র-জনতার ক্ষোভের সম্মুখীন হওয়া দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো স্ব–উদ্যোগে নিজেদের সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সময় পেলেও তেমন কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ করা যায়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে একদিকে যখন শয়ে শয়ে লাশ পড়ছিল, অন্যদিকে কিছু সংবাদমাধ্যম খুনিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গভীর পরিতাপের বিষয়, ওই সব সংবাদমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা এখনো সেই সময়কার ভুল স্বীকার করেননি। বিগত দিনে গণস্বার্থবিরোধী অবস্থানের ফলে অনুশোচনার বদলে এখনো অনেকে ফ্যাসিবাদী বয়ান উৎপাদনের ধৃষ্টতা দেখিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাঠক-দর্শকের আস্থা ধরে রাখতে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়া চিহ্নিত ব্যক্তিদের টক-শোগুলোতে সঞ্চালক কিংবা আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোর অনুরোধ করেছে দলটি। এ ছাড়া, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের যে প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানিয়েছে তারা।




