টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিশরের ঐতিহাসিক জয়

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে মিশরের ঐতিহাসিক জয়
মিশর ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের শেষ আশাও শেষ করে দিল মিশর। শেষ ৩২-এর নাটকীয় লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আফ্রিকার দলটি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়।

অস্ট্রেলিয়া ভৌগোলিকভাবে ওশেনিয়ার দেশ হলেও ফুটবলে তারা এএফসির সদস্য। তাই তাদের বিদায়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সব দলের।

ডালাসে ম্যাচের শুরুতেই গোলের খুব কাছে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পঞ্চম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান ভলপাতোর শট ক্রসবারে লাগে। সেই সুযোগের পর উল্টো ১৩ মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর। ফ্রি-কিক পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। করিম হাফেজের ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ইমাম আশুর।

প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়া সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচে বেশি ধার ছিল মিশরের আক্রমণে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভুলের মাশুল দিতে হয় তাদের। ৫৫ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মোহামেদ হানি নিজের জালেই পাঠান। স্কোর হয়ে যায় ১-১।

এরপর দুই দলই সতর্ক হয়ে পড়ে। সালাহ কয়েকবার ঝলক দেখালেও মিশর আর গোল পায়নি। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে রামি রাবিয়ার হেড ঠেকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে রাখেন গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। অতিরিক্ত সময়েও সমতা না ভাঙায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে।

শুটআউটের আগে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যাথু রায়ানকে নামায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু সেই কৌশল কাজে আসেনি। প্রথম শটেই হ্যারি সাউটার লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন। মিশরের হয়ে মাহমুদ সাবের গোল করে এগিয়ে দেন দলকে।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জ্যাকসন আরভাইন ও আওয়ার মাবিল গোল করলেও চাপ কাটেনি। মিশরের রামি রাবিয়া গোল করেন, এরপর সালাহ মাঝ বরাবর পানেনকা পেনাল্টিতে ব্যবধান বাড়ান। অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ শটে লুকাস হেরিংটনের বল ক্রসবারে লাগে। এরপর হোসাম আবদেলমাগুইদ গোল করে মিশরের জয় নিশ্চিত করেন।

পেনাল্টিতে মিশরের চার শটের চারটিই জালে যায়। রায়ান কোনো শট ঠেকাতে পারেননি। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দুই মিসই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

এই জয়ে ইতিহাস গড়ল মিশর। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম নকআউট জয় পেল তারা। ১৯৩৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় খেলবে মিশর। সালাহর চোখের জলও তাই শুধু স্বস্তির ছিল না, ছিল ইতিহাসের ভার নামার আবেগও।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য রাতটি হয়ে রইল আরেকটি নকআউট হতাশা। ২০০৬ সালে ইতালি, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার পর এবার মিশরের কাছে হেরে বিশ্বকাপের নকআউট জয়ের অপেক্ষা আরও বাড়ল সকারুদের।

শেষ ষোলোয় মিশরের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের জয়ী দল। সালাহদের সামনে তাই অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা।