আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাল যেসব আরব দেশ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দেয়। কারণ, পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে তেহরান কয়েকটি আরব দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায়। এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলো।
এ অবস্থায় ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে তার কফিনবন্দি মরদেহ রাখা হলে খবর ছড়ায়, পশ্চিম এশিয়ার বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ সেখানে প্রতিনিধি পাঠাবে না। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
তাদের মধ্যে সৌদি আরব ছিল সবার শীর্ষে। দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক এতে প্রভাবিত করতে পারে বলেও অনেকের ধারণা ছিল। তবে সেই ‘উড়ো খবর’ মিথ্যা প্রমাণ করে আলী খামেনির মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে গ্র্যান্ড মোসল্লায় হাজির হন আরব নেতারা।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরিজি। ২০২৪ সালে যখন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন। তখন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার জানাজায় যোগ দিয়েছিলেন। উপসাগরীয় দেশের মধ্যে এতে অংশ নিয়েছে ওমান ও কাতার।
তবে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত আলী খামেনির প্রতি এখন পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করেনি। দেশ দুটি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রথম আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। বিধায় সাম্প্রাতিক উত্তেজনায় তারা সবচেয়ে বেশি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
শুক্রবার আলী খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানান ওমানের স্টেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আবদুলমালিক বিন আবদুল্লাহ আল খলিলি ও কাতারের শুরা কাউন্সিলের স্পিকার হাসান বিন আবদুল্লাহ আল ঘানিম। এ ছাড়াও শ্রদ্ধা জানান ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেভদেত ইলমাজ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, লেবাননের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিশেল মেনাসা, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি।
এতে আরও অংশ নেন রাশিয়ান নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ, চীনের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ও সংসদ ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই, বাংলাদেশের সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারতের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা ও বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল এবং হিজবুল্লাহ কর্মকর্তা ও লেবাননের সাবেক মন্ত্রী মাহমুদ কোমাতি।
সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা, আইআরআইবি





