ভারতে ১২ কথিত বাংলাদেশি আটক, পাঠানো হলো হোল্ডিং সেন্টারে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনকে আটক করেছে রাজ্য পুলিশ। আটকরা ‘বাংলাদেশি’ বলে দাবি করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ও নদীয়া জেলা থেকে ১০ জন এবং ত্রিপুরা থেকে দুই কিশোরীকে আটক করা হয়েছে। সবাইকে সংশ্লিষ্ট জেলার ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বা আটকশিবিরে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলা রেলস্টেশন থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৯ জন সন্দেহভাজন কথিত বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয় ও কাগজপত্র নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তদন্তে তারা কথিত ‘বাংলাদেশি’ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের লালগোলার পদ্মা ভবনের আটক শিবিরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, নদিয়া জেলার হাঁসখালি থানা পুলিশ মাগুরার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সি কথিত বাংলাদেশি নারী প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, তিনি কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তাকে কৃষ্ণনগরের হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া এলাকা থেকে দুইজন কথিত বাংলাদেশি নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে প্রশাসন। তাদের অভিযোগ, প্রায় দেড় বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রিপুরার দুই যুবকের সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে অবৈধভাবে তাদের ত্রিপুরায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে করা হয় এবং নির্যাতন করা হয়।
ওই দুই কিশোরী জানায়, তাদের বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায়।
সোনামুড়া মহকুমার অতিরিক্ত মহকুমা শাসক দিব্যেন্দু দাস জানিয়েছেন, যেখান থেকে কিশোরীদের উদ্ধার করা হয়েছে, সেই পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে দুই কিশোরীকে সরকারি হোমে রাখা হয়েছে। দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাদের বাংলাদেশে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।





