চা দোকানির ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি এনসিপির ৩ নেতা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
চা দোকানির ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি এনসিপির ৩ নেতা
অভিযুক্ত এনসিপি নেতা শাহরিয়ার। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার একটি হোটেলের ভাড়া পরিশোধ না করার খবরের মধ্যেই এবার চা দোকানেরও বকেয়া ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেই নেতাদের তিনজনের বিরুদ্ধে।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার এক চা দোকানি এনসিপি নেতা শাহরিয়ার ও শাখাওয়াত হোসেনের নাম উল্লেখ করে তাদের কাছে বকেয়া টাকা পান বলে এশিয়া পোস্টের কাছে দাবি করেন। এ টাকার জন্য তিনি এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বিচার দিয়ে টাকা আদায় করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

ভুক্তভোগী চা দোকানি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি গুলিস্তানের একজন সাধারণ চা দোকানদার। আমার দোকানে বিগত সাত-আট মাস আগে এনসিপির শাহরিয়ার ও শাখাওয়াত ভাই আসছিল। তারা আমার এই ছোট দোকান থেকে প্রতি সপ্তাহে বাকি খেয়েছে। এতে বকেয়া হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকার মতো। পরে তাদের কাছে বাকি টাকা চাওয়ায় আমাকে ভয়ভীতি দেখ়েছে। আমার দোকান তুলে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে। পরে তারা টাকা না দিয়েই চলে গেছে।’

বিচার চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তারা এখন পর্যন্ত আমার টাকাটা দেয়নি। এখন আমি এনসিপি নেতাকর্মীদের কাছে বিচার চাই এবং আমার পাওনা টাকা আদায়ের জন্য তাদের কাছে আবেদন করছি।’

এ সময় চা দোকানি বকেয়া পাওনা টাকার লিখিত কয়েকটি কাগজ দেখান। কাগজে কয়েক নেতার নামে বকেয়া টাকার পরিমাণ তারিখসহ কয়েক ধাপে লেখা রয়েছে।

বর্তমানে শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ বিষয়ে জানতে এনসিপি নেতা শাহরিয়ারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শৃঙ্খলা কমিটির উপপ্রধান অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং চা দোকানির অভিযোগের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। এ ব্যাপারে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। যদি অভিযোগের সত্যতা মেলে, তাহলে দলের পক্ষ থেক শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ছবি : এশিয়া পোস্ট
ছবি : এশিয়া পোস্ট

চা দোকানি শাখাওয়াত ও হৃদয় নামে আরও দুই নেতার কাছেও বকেয়া টাকা পান বলে দাবি করেন। অনেক চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এই দুজন কোন পদে আছেন, এখন কোথায় বিস্তারিত জানতে চাইলে এনসিপির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য মাহবুব আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মহানগর দক্ষিণ কমিটিতে অনেক নেতাই আছেন, সুনির্দিষ্টভাবে এই নামে অথবা কে কোন পদে আছেন, তা আমি অবগত নই।’

এর আগে গত ১ জুলাই এশিয়া পোস্টে একটি গণমাধ্যমের বরাতে ‘১২ লাখ টাকা না দিয়েই হোটেল ছাড়লেন এনসিপি নেতারা!’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপসহ কয়েকজন নেতা ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হোটেলের দুটি কক্ষ ব্যবহার করেন। তাদের কাছে প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে।

অভিযোগগুলো লিখিতভাবে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জমা দিয়েছে হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি তদন্তে এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন দলের আহ্বায়ক।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার। তিনি বলেন, হোটেল ভাড়ার বিষয়টি তার জানা নেই এবং নারী নিয়ে হোটেলে অবস্থানের অভিযোগও সত্য নয়। নিজের বিরুদ্ধে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।

অন্য অভিযুক্ত শাখাওয়াত হোসেনও দাবি করেন, কক্ষটি তার নামে ভাড়া নেওয়া হয়নি এবং ভাড়া পরিশোধের বিষয়টি অন্য একজন দেখভাল করতেন।

হোটেলের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রথমে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হলেও পরে আর কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। পাওনা টাকা চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দুটি কক্ষে নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তির যাতায়াত ছিল এবং নারীদের অবাধ প্রবেশসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

তাদের ভাষ্য, দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। পরে বকেয়া পরিশোধ না করেই সংশ্লিষ্টরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।

এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই অভিযোগটি দলের শৃঙ্খলা কমিটির কাছে রয়েছে এবং তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।