কুড়িগ্রামে তীব্র নদীভাঙন, বন্যার শঙ্কা

উজানের ঢল এবং নদ-নদীর পানি ওঠানামার প্রভাবে কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। একইসঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র, আবাদি জমি, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জেলার ৪০টি ভাঙনকবলিত পয়েন্টের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে নদীভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। এ ছাড়া জেলার সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চার থেকে সাত জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অথবা বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি নদীভাঙনের তীব্রতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন তাদের জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার পাঁচ থেকে দশবার পর্যন্ত বসতভিটা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। এবার ভিটেমাটি হারালে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও থাকবে না। তাই দ্রুত স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, গত তিন-চার বছর ধরে দুধকুমারের ভাঙনে এ এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে। এখনও পুরো একটি গ্রাম হুমকির মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের পাশাপাশি স্কুল, হাট ও বিজিবি ক্যাম্পও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়বে।

একই এলাকার শাহিনা বেগম বলেন, নদী ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে। এখন ঘর সরিয়ে নিচ্ছি। কিন্তু এরপর কোথায় যাব জানি না। আমাদের আর কোনো জায়গা-জমিও নেই।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৭৪ কিলোমিটার এলাকা ভাঙনপ্রবণ। এর মধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার নদীতীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ নদীভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়ে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, নদ-নদীর পানি বাড়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




