কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম: রিজভী

মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
যুবদলের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত জাকির হোসেন নান্নুর স্মরণে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো মূলত এই বিপ্লবের সন্তান। বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপির জন্ম। দলের ভেতরে বিপ্লবের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘১৭ বছরের ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেছে। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে দলের শীর্ষ নেতার দেশে ফেরা এবং পরবর্তীতে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ প্রমাণ করে, কারও শ্রম বা আত্মদান কখনও বৃথা যায় না। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ন্যায়ের যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা এক দিন নানা ইতিবাচক প্রাপ্তি দিয়ে পূর্ণ হবে।’
বর্তমান সরকারের গৃহীত নানা জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সরকার ফ্যামিলি কার্ডের পরিসর বাড়াচ্ছে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দিচ্ছে। এক-দুই বছর পর এসবের সুফল যখন সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাবে, তখন জাকির হোসেন নান্নুর মতো নেতাদের আত্মদান শতভাগ স্বার্থক হবে।’
৪৫ বছর পর শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মেজর মোজাফ্ফর হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়েও কথা বলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।
তিনি বলেন, ‘এই ৪৫ বছর সে কোথায় লুকিয়ে ছিল? আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিংবা দেশে কারা তাকে আশ্রয় দিয়েছিল?’
সাবেক সংসদ সদস্য কাদের সিদ্দিকীর তৎকালীন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘সে সময় তিনি ভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তাকে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল। দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তাকে কারা ব্যবহার করেছিল, আজ তা অনুসন্ধানের সময় এসেছে।’
জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মদান নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘মীর মুগ্ধ, ওয়াশিম ও আবু সাঈদদের ওপর পুলিশের সঙ্গে মিলে গুলি চালিয়ে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।’ পরবর্তীতে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর কারা তাদের সেখানে আশ্রয় দিয়েছে তার জবাব খুঁজে বের করারও আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।
.png)





