জুলাইয়ের শহীদেরা ৭১-এর শহীদদের বাস্তব অনুসারী: মজিবুর রহমান মঞ্জু

জুলাইয়ের শহীদেরা ১৯৭১ সালের শহীদদের বাস্তব অনুসারী বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, তারা অকাতরে জীবন ও রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে,তারা তাদের সার্থক উত্তরসূরি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই)বিকেল ৪টায় রাজধানীতে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক প্রতীকী কফিন মিছিলে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।
জুলাইয়ের স্লোগানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, জুলাইয়ের স্লোগান ছিল-‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা দেশটা কারও বাপের না’। যারাই ক্ষমতার মোহে দেশকে নিজের বাপের সম্পত্তি এবং জনগণকে নিজেদের গোলাম ভাবতে শুরু করবেন, তাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের চেতনা আমাদের আজীবন পথ দেখাবে এবং আমাদের গৌরবময় জুলাই বারবার ফিরে আসবে।
মিছিলের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন,অনেকে প্রশ্ন করেন, জুলাই আমাদের কী দিয়েছে?এই প্রশ্ন অবশ্যই আসবে এবং বারবার আসবে। আমাদেরও বারবার এর উত্তর দিতে হবে। আমরা কী চেয়েছিলাম আর কী পেয়েছি, তার উত্তর মিলিয়ে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত যা যা চেয়েছিল,তার সবই পেয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি,তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, লাখ লাখ নেতা-কর্মীর মুক্তি, জামায়াত-শিবিরের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার,দলের রাজনীতির অধিকার ফিরে পাওয়া, নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের ঐতিহাসিক ভালো ফলাফল এবং এক দলের ক্ষমতায় থাকা ও অন্য দলের প্রধান বিরোধী দল হওয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে, যারা জুলাইয়ে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের প্রধান অংশ একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দল হয়েছে। এখন জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব এই তিন দলের ওপরই অর্পিত হয়েছে। শহীদদের রক্তের দাবি হলো-গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পথে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনগণের অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন।
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সে সময় বিএনপি নেতারা বলেছিলেন- সংস্কারের মূল দায়িত্ব সংসদের। এখন সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের সময় এসেছে। পাশাপাশি তিনি পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিকে অতীতের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদসহ দেশের সকল শহীদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শহীদদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ১৯৭১ সালের অভিজ্ঞতা আমাদের দেখিয়েছে যে, প্রকৃত শহীদদের স্বীকৃতি নিশ্চিত না হলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি অবিলম্বে একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করা, ভুয়া নাম বাদ দেওয়া, শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং এ কাজে ‘জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন’কে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নাটক, চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রতীকী কফিন মিছিলটি বিজয়নগরস্থ ‘বিজয়-৭১ চত্বর’ থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল মোড়, নাইটিংগেল মোড় ও পল্টন মোড় এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিজয়-৭১ চত্বরে এসে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোক, শ্রদ্ধা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম খালিদ হাসান, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল; ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান; স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর; ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স; গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন; ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুলতানা রাজিয়া, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদস্য সচিব শরীফ হোসেন, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কবির, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, আমেনা বেগম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, মশিউর রহমান মিলু, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক রাশিদা আক্তার মিতু, মিজানুর রহমান মিঠু, মহানগর উত্তরের যুগ্ম সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, বরিশালের নেতা জাকির হোসেন, নারী নেত্রী রুনা হোসেন, শ্রমিক নেতা মনির হোসেন প্রমুখ।
.png)





