logo

গাজায় ১৪ হাজার ট্রাকে প্রায় দেড় লাখ টন ত্রাণ পাঠালো আমিরাত

ফরহাদ হুসাইন
ফরহাদ হুসাইন, মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো
গাজায় ১৪ হাজার ট্রাকে প্রায় দেড় লাখ টন ত্রাণ পাঠালো আমিরাত
মিশর সীমান্ত দিয়ে গাজায় প্রবেশের অপেক্ষায় ইউএই’র ত্রাণবাহি গাড়ি। ছবি: অনলাইন।

ফিলিস্তিনের গাজায় স্থলপথে ১৪ হাজার ৪৪২টি ট্রাকে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৯১ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার গাজায় 'অপারেশন গ্যালান্ট নাইট ৩' এর আওতায় এসব ত্রাণ সহায়তা পাঠানো অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

আরব আমিরাতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত খাবার, আশ্রয়ের সামগ্রী, পানি ও অন্যান্য জরুরি জিনিসপত্র যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো হয়েছে। সড়কপথের পাশাপাশি আকাশ ও সমুদ্রপথেও ত্রাণ পাঠানো হয়েছে।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসন

আমিরাতের সহায়তাপুষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ২ লাখ ৯৪ হাজার ৫৭৭ জন রোগী সেবা পেয়েছেন। মিশরের আল আরিশে আমিরাতের ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন গাজার ৩৫ হাজার ৩০ জন রোগী ও আহত ব্যক্তি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা ও বিশেষায়িত সেবা রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইউএই কর্তৃপক্ষ।

মিডল ইস্ট আইয়ের কলাম/মক্কা চুক্তি কেন ইসরায়েল-ইউএই জোটের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে

গুরুতর আঘাতে অঙ্গ হারানো ব্যক্তিদের জন্য 'আ স্টেপ অব হোপ' কর্মসূচির আওতায় ১৯৮ জনের শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া, পানির সংকট মোকাবিলায় গাজার বিভিন্ন এলাকায় ৫০টি পানির ট্যাঙ্কার সরবরাহ করেছে আমিরাত। এর মাধ্যমে জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছানো হচ্ছে।

আমিরাতের মানবিক এয়ার ব্রিজের আওতায় এ পর্যন্ত ৭৭৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। একই সময়ে সমুদ্রপথে ২৫টি জাহাজ ত্রাণ নিয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৩টি আমিরাতের বন্দর থেকে, তিনটি মিশরের আল আরিশ থেকে এবং নয়টি সাইপ্রাস থেকে যাত্রা করেছে। অন্যদিকে, দুর্গম এবং সড়কপথে পৌঁছানো কঠিন এলাকার জন্য চালু 'বার্ডস অব গুডনেস' উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৮১টি এয়ারড্রপ অভিযান হয়েছে। ২১৮টি বিমান ব্যবহার করে ফেলা হয়েছে মোট ৪ হাজার ৭৬ টন খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী।

আরব আমিরাতে শেষ হলো গরমজনিত মধ্যাহ্নকালীন কর্মবিরতি

গণবিবাহের আয়োজন

মানবিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগেও অংশ নিয়েছে আমিরাত। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে 'অপারেশন গ্যালান্ট নাইট'-এর আওতায় ৪০৮ ফিলিস্তিনি বরের গণবিবাহ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। কঠিন পরিস্থিতিতেও যাঁরা নতুন সংসার শুরু করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই ছিল এর উদ্দেশ্য।

এই পুরো কার্যক্রমে আমিরাতের ১৯টি মানবিক ও দাতব্য সংস্থা যুক্ত রয়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয়, পানি ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিয়ে তারা কাজ করছে।