তিন বছর পর ঢাকার আকাশে ইতিহাদের ফ্লাইট

ফরহাদ হুসাইন, মধ্যপ্রাচ্য ব্যুরো
তিন বছর পর ঢাকার আকাশে ইতিহাদের ফ্লাইট
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর ঢাকা রুটে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় বিমান সংস্থা ইতিহাদ এয়ারওয়েজ।

Advertisement

শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টায় আবুধাবি থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রথম ফ্লাইটটি শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উদ্বোধনী এই ফ্লাইটের প্রতিটি আসন আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।

ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এই রুটে সপ্তাহে চারটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। বিশালাকায় বোয়িং ৭৭৭ বিমানে থাকবে ২৮টি লাই-ফ্ল্যাট বিজনেস ক্লাস আসন এবং ৩৭৪টি ইকোনমি ক্লাস আসন। পাশাপাশি বিমানের থাকবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্গো ধারণক্ষমতা।

ফ্লাইটের সময়সূচি

আবুধাবি থেকে রাত ১০ টায় রওয়ানা হয়ে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। সপ্তাহের সোমবার, বুধবার, শুক্রবার ও শনিবার এই ফ্লাইট চলবে।

ঢাকা থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটে রওয়ানা হয়ে পরদিন রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে আবুধাবিতে পৌঁছাবে। সপ্তাহের মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার, শনিবার ও রবিবার এই ফ্লাইট চলবে।

প্রবাসী ও বাণিজ্য সংযোগে নতুন মাত্রা

ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তোনোয়াল্ডো নেভেস বলেন, প্রথম ফ্লাইটেই সম্পূর্ণ আসন পূর্ণ হওয়া দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের গভীরতার প্রমাণ। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত বিপুল বাংলাদেশি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আবুধাবিকে ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে জিসিসি, উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের সুযোগও তৈরি হবে এই রুটে।

পোশাক শিল্পে নতুন সুযোগ

যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি এই রুটটি বাংলাদেশের পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের জন্যও বিশেষ সুসংবাদ। এতিহাদ জানিয়েছে, এই ওয়াইডবডি বিমানের কার্গো সুবিধা বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্য পাঠাতে সাহায্য করবে। আবুধাবি এই সংযোগে কৌশলগত ট্রানজিট হাব হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

আবুধাবিতে স্টপওভারের সুযোগ

আবুধাবি হয়ে যাত্রা করা যাত্রীরা ইতিহাদের বিশেষ স্টপওভার কার্যক্রমের আওতায় সংযোগ ফ্লাইটের মাঝে আবুধাবি শহর ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, লুভ্র আবুধাবি, জায়েদ জাতীয় জাদুঘরসহ সমুদ্র সৈকত, রেস্তোরাঁ ও ওয়াটারফ্রন্টের আকর্ষণীয় স্থানগুলো উপভোগ করতে পারবেন তারা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রুট চালু হওয়া বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বাণিজ্যিক ও মানবিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করাবে।