কেয়ামত এসে গেলেও যে কাজটি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
কেয়ামত এসে গেলেও যে কাজটি করতে বলেছেন মহানবী (সা.)
গম্বুজ ও আরবিতে লেখা ‘মুহাম্মদ’। ছবি: সংগৃহীত

সবুজ গাছগাছালি ও বনায়নের মাধ্যমে আল্লাহ তাআল্লা পৃথিবীকে সুশোভিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি জমিন থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন, এর মধ্যে তোমাদের বসতি দান (আবাদ) করেছেন।’ (সুরা হুদ, আয়াত: ৬১)

Advertisement

পৃথিবীর মাটি আবাদ ও ভূমিকে সবুজ-শ্যামল রাখতে গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বের অন্যতম লক্ষ্য হলো, জমিনকে আবাদ করা। বৃক্ষরোপণ ও গাছগাছালির যত্ন নেওয়া সেই আবাদের অংশ। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। সেই অক্সিজেন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। একটি গাছ বছরে প্রায় ১৩ কেজি কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।

ইসলামে গাছ লাগানো গুরুত্বপূর্ণ। গাছ লাগানো সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে মুসলমান (ফলবান) গাছ লাগাবে, তা থেকে যা কিছু খাওয়া হবে, তা তার জন্য সদকা হবে। ওই গাছ থেকে যা চুরি হবে, তাও সদকা হিসেবে গণ্য হবে। পশু যা খাবে, তাও সদকা হিসেবে গণ্য হবে। পাখি যা খাবে, তাও সদকা হিসেবে গণ্য হবে। আর কেউ ওই গাছের ক্ষতি সাধন করলে তাও তার জন্য সদকা হিসেবে বিবেচিত হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৫২)

ফলবান গাছ লাগানোর পর তা থেকে পাখি, মানুষ বা কোনো জন্তু যদি ফল খায়, তাহলে সেটি ব্যক্তির জন্য সদকা হবে। গাছ রোপণকারী সদকা করার সওয়াব পাবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান ফলবান গাছ রোপণ করে বা কোনো ফসল ফলায় আর তা থেকে পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খায়, তবে তার জন্য সেটি সদকা বলে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১৯৫)

আপনি একটি গাছ লাগিয়েছেন। আপনাকে না বলেও যদি সে গাছ থেকে মানুষ ফল খায় বা আপনার অজান্তে পশুপাখি ফল খায়, এর বিনিময়ে আপনি পাবেন দানের সওয়াব। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার উম্মে মাবাদের বাগানে গিয়ে তার কাছে জানতে চাইল, হে উম্মে মাবাদ, এ গাছ কে লাগিয়েছে? মুসলমান নাকি কাফের? সে বলল, মুসলমান। তিনি বললেন, কোনো মুসলমান যদি কোনো গাছ লাগায়, আর তা থেকে মানুষ বা পশু খায়, তবে সেটি তার জন্য দান হয়ে থাকবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৯৯২)

ফসল উপযোগী জায়গা ফসলশূন্য রাখা ইসলাম সমর্থন করে না। জমির মালিকের নৈতিক দায়িত্ব হলো, জমিকে আবাদ রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি পড়ে থাকা (মালিকানাহীন) জমিকে আবাদ করে, তবে সে এর প্রতিদান পাবে। আর যেসব খাদ্যসন্ধানী প্রাণী এ জমির ফসল থেকে খাবে, তা ওই ব্যক্তির জন্য সদকারূপে বিবেচিত হবে।’ (আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ি, হাদিস: ৫৭৫৭)

কেয়ামত চিরন্তন সত্য। একদিন অবশ্যই কেয়ামত হবে। ভালো কাজের মাধ্যমে কেয়ামতের জন্য নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখতে হবে। কেয়ামতের আগে সুযোগ থাকলে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেন, ‘তুমি যদি নিশ্চিতভাবে জানতে পার যে কেয়ামত এসে গেছে, আমার তোমার হাতে একটি গাছের চারা আছে, তার পরও তা লাগিয়ে দাও।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯৮১)

গাছ লাগানোতে পেশাদার হওয়া জরুরি নয়। নিছক ঘরের আশপাশে, বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগিয়েও এ সুন্নতের ওপর আমল করা যায়। তেমনি জমি ও নগর পরিচ্ছন্নতার কাজেও অংশ নেওয়া যায়। তাও না পারলে অন্তত গাছ বা চারার ক্ষতি না করা। গাছ লাগানো মহানবী (সা.)-এর বিশেষ আমল। তিনি নিজে গাছ লাগিয়েছেন ও এর যত্ন নিয়েছেন। মানুষকে যত্ন নিতে উৎসাহিত করেছেন।