জিন কি মানুষের ওপর বদনজর ফেলতে পারে

পৃথিবীতে মানুষের আগে জিনদের বসবাস ছিল। মানুষের আগে তাদের সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কালো কাদামাটি থেকে, যা শুকিয়ে ঠনঠনে হয়েছিল। মানুষের আগে জিনকে সৃষ্টি করেছি লেলিহান অগ্নিশিখা থেকে।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ২৬-২৭)। তবে মানুষের কত দিন আগে জিনজাতি সৃষ্টি করা হয়েছে, এ নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ আছে।
মানুষের ওপর জিনের বদনজর পড়ে কি না, এ বিষয়ে মানুষের মুখে অনেক কথা চালু আছে। চালু আছে বহু লোকাচার।
বদনজর দুভাবে হয়ে থাকে। এক. মানুষের থেকে। দুই. জিনের থেকে। বদনজর লাগার বিষয়টি সত্য। এটাকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘বদনজরের বিষয়টি সত্য।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৮৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘বদনজরের ব্যাপারটি সত্য। যদি কোনো কিছু ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারত, তবে বদনজরই পারত।’ (মুসলিম, হাদিস: ২১৮৮)
অনেকে আছেন, বদনজরের বিষয়টি অস্বীকার করতে চান। তারা এটি নিয়ে বেশ কড়া কথা বলেন। কিন্তু হাদিস থেকে বোঝা যায়, নজর সত্য। উরওয়া ইবনে জুবাইর (রা.) বলেন, ‘একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মে সালামার ঘরে চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে এমন একজন দাসীকে দেখতে পান। তখন তিনি উম্মে সালামাকে বলেন, এই দাসীকে রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক করাও, তার বদনজর লেগেছে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৩৯)
বদনজর যেমন মানুষের থেকে লাগতে পারে, তেমনি লাগতে পারে জিন থেকেও। ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ‘বদনজর জিন ও মানুষ উভয়ের থেকেই লাগতে পারে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৯৬৬৮)
ইমাম আহমাদ (রহ.) আবু হুরাইয়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বদনজর সত্য, যা শয়তান ও হিংসুক বনি আদমের কারণে হয়।’ (ফাতহুল বারি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ২০২)
বদনজর থেকে বাঁচার উপায়
বদনজর থেকে বাঁচতে সব সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে। তাঁর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার মাধ্যমে বদনজর থেকে বাঁচা যেতে পারে। যদি কেউ বদনজরে আক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে তাকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করা যেতে পারে। ঝাঁড়ফুকের মাধ্যমে বদনজর থেকে পরিত্রাণের কথা হাদিসে পাওয়া যায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা, নজরের প্রভাব সত্য।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৫০৮)
বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বদনজর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। এখানে দুটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দুই নাতি হজরত হাসান ও হজরত হুসাইনকে (রা.) লক্ষ্য করে একটি দোয়া পড়তেন। দোয়া পড়ে তাদের দুজনকে ঝাড়ফুঁক করে দিতেন। দোয়াটি হলো—
أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ
উচ্চারণ: আউজু বি কালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিং কুল্লি শাইতানিন, ওয়া হাম্মাতিন, ওয়া মিং কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যবলির উসিলায় প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হজরত আবু সাইদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার কোনো এক রোগে আক্রান্ত হলেন। তখন জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাইল তখন এ দোয়াটি পড়লেন—
بِسْمِ الله أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللهُ يَشْفِيكَ بِسمِ اللهِ أُرقِيكَ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আউ আইনিন হাসিদিন। আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরকিকা।
অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি, যেসব জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, যেসব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫১২)






