স্ট্রবেরি মুন কী, চাঁদের রঙের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
স্ট্রবেরি মুন কী, চাঁদের রঙের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে?
ছবি : এআই

প্রতি বছর জুন মাসের পূর্ণিমার চাঁদকে বলা হয় স্ট্রবেরি মুন। নাম শুনে অনেকের মনে হতে পারে, এদিন চাঁদ হয়তো স্ট্রবেরির মতো লাল বা গোলাপি রঙের হয়ে যায়। আসলে বিষয়টি তা নয়। এই নামের সঙ্গে চাঁদের রঙের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এর পেছনে রয়েছে প্রকৃতি, ঋতু পরিবর্তন এবং বহু শতাব্দী পুরোনো ঐতিহ্য।

Advertisement

কেন নাম স্ট্রবেরি মুন?

উত্তর আমেরিকার আদিবাসী আলগনকুইন জনগোষ্ঠী জুন মাসের পূর্ণিমাকে স্ট্রবেরি মুন নামে ডাকত। কারণ, এই সময়েই তাদের এলাকায় জুনে পাকা স্ট্রবেরি সংগ্রহের মৌসুম শুরু হতো। পরে ওজিবওয়ে, ডাকোটা ও লাকোটা জনগোষ্ঠীও একই নাম ব্যবহার করে।

অর্থাৎ, স্ট্রবেরি মুন নামটি মূলত ঋতুভিত্তিক একটি পরিচয়। এটি চাঁদের রং নয়, বরং বছরের একটি বিশেষ সময়কে নির্দেশ করে।

চাঁদ কি সত্যিই লাল বা গোলাপি দেখায়?

না। স্ট্রবেরি মুন সাধারণত অন্য পূর্ণিমার মতোই সাদা রঙের হয়।

তবে চাঁদ যখন দিগন্তের কাছাকাছি ওঠে, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আলোকে অনেক বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে নীল আলো বেশি ছড়িয়ে যায় এবং হলুদ, কমলা বা হালকা লালচে আভা বেশি চোখে পড়ে। তাই চাঁদকে কিছু সময়ের জন্য কমলা বা সোনালি রঙের মনে হতে পারে।

কেন জুনের পূর্ণিমার চাঁদ এত নিচু পথে চলে?

উত্তর গোলার্ধে জুন মাসে গ্রীষ্মকালীন অয়ন ঘটে। এ সময় সূর্য বছরের সবচেয়ে উঁচু পথে আকাশ অতিক্রম করে।

পূর্ণিমার চাঁদ সূর্যের ঠিক বিপরীত অবস্থানে থাকে। ফলে সূর্য যত ওপরে থাকে, পূর্ণিমার চাঁদ তত নিচু পথে আকাশে চলাচল করে। এ কারণেই জুনের পূর্ণিমা বছরের সবচেয়ে নিচু পথে দেখা যায়।

ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

কেন চাঁদকে এত বড় মনে হয়?

অনেকেই লক্ষ্য করেন, দিগন্তের কাছে চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বড় মনে হয়।

এটি আসলে একটি দৃষ্টিভ্রম, যার নাম মুন ইল্যুশন। গাছ, ভবন বা পাহাড়ের মতো পরিচিত বস্তুর পাশে থাকায় আমাদের মস্তিষ্ক চাঁদকে বাস্তবের চেয়ে বড় বলে মনে করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চাঁদের আকার বদলায় না।

শুধু স্ট্রবেরি মুন নয়, আরও অনেক নাম রয়েছে

বিভিন্ন সংস্কৃতিতে জুনের পূর্ণিমার ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন—বেরিজ রিপেন মুন, ব্লুমিং মুন, গ্রিন কর্ন মুন, বার্থ মুন, হানি মুন এবং মীড মুন।

মজার তথ্য হলো—হানি মুন নামটি থেকেই পরবর্তীতে ইংরেজি শব্দ ‘হানিমুন’-এর উৎপত্তি হয়েছে বলে ইতিহাসবিদদের ধারণা।

কখন দেখা যায়

পূর্ণিমা নির্দিষ্ট একটি মুহূর্তে সম্পূর্ণ হয়। তবে তার আগের ও পরের প্রায় এক দিন পর্যন্ত চাঁদকে প্রায় পূর্ণই দেখা যায়।

সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতা পেতে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পর পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্ব আকাশের খোলা দিগন্তে নজর রাখুন। শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে থাকলে চাঁদের সৌন্দর্য আরও ভালোভাবে উপভোগ করা যায়।

খালি চোখেই দেখা যাবে

স্ট্রবেরি মুন দেখতে কোনো টেলিস্কোপ বা দুরবিনের প্রয়োজন নেই। বরং খালি চোখেই এটি সবচেয়ে সুন্দর লাগে। বিশেষ করে দিগন্তের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় এর বড় দেখানোর ভ্রম এবং কমলা আভা সহজেই উপভোগ করা যায়।

স্ট্রবেরি মুন কোনো বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা নয়। তবুও এটি বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় পূর্ণিমা। এর নামের পেছনে রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দীর্ঘ সম্পর্ক, আর আকাশে এর নিচু পথ ও সোনালি আভা একে করে তোলে আরও মনোমুগ্ধকর। তাই জুনের পরিষ্কার সন্ধ্যায় একটু সময় বের করে আকাশের দিকে তাকাতে ভুলবেন না। হয়তো বছরের সবচেয়ে সুন্দর পূর্ণিমার চাঁদটি আপনার চোখেই ধরা দেবে।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড