প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কেন গাজর রাখবেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কেন গাজর রাখবেন
ছবি : সংগৃহীত

শীতের সবজি হিসেবে গাজরের পরিচিতি থাকলেও এখন প্রায় সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায়। সালাদ, তরকারি, স্যুপ কিংবা জুস, নানা উপায়ে এটি খাওয়া যায়। শুধু স্বাদই নয়, গাজর পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে রয়েছে এমন অনেক ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisement

চলুন জেনে নেওয়া যাক, নিয়মিত গাজর খেলে কী কী উপকার পাওয়া যেতে পারে।

গাজরে কী কী পুষ্টি আছে

প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা গাজরে প্রায় ৪১ ক্যালরি, ৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৭ গ্রাম খাদ্য আঁশ, ০.৮ গ্রাম প্রোটিন ও সামান্য পরিমাণে চর্বি থাকে। এ ছাড়া গাজরে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, বায়োটিন এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

চোখের জন্য উপকারী

গাজরের সবচেয়ে পরিচিত উপকারিতা হলো এটি চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে গিয়ে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। এই ভিটামিন রাতকানা প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এ ছাড়া গাজরে থাকা লুটেইন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সজনিত চোখের কিছু সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে

ভিটামিন এ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। এগুলো কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শরীরকে সহায়তা করে।

হজম ভালো রাখতে সাহায্য করে

গাজরে থাকা খাদ্য আঁশ হজমের জন্য উপকারী। এটি মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে পারে।

এ ছাড়া আঁশ অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও ভালো, যা সামগ্রিক পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ভালো

গাজরে থাকা দ্রবণীয় আঁশ শরীরে কোলেস্টেরলের শোষণ কিছুটা কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গাজর খেলে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে

গাজরে ক্যালরি কম, কিন্তু আঁশ বেশি। ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

কাঁচা গাজরের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম। তাই এটি ধীরে ধীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়।

যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আছে, তারা পরিমিত পরিমাণে গাজর স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে খেতে পারেন।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে

গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, আলফা-ক্যারোটিন, লুটেইন ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যালের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কোন ধরনের গাজর বেশি উপকারী?

কমলা রঙের গাজর সবচেয়ে বেশি পরিচিত হলেও বর্তমানে লাল, বেগুনি, হলুদ ও সাদা গাজরও পাওয়া যায়।

  • কমলা গাজরে বিটা-ক্যারোটিন বেশি থাকে।
  • লাল গাজরে লাইকোপিন থাকে, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
  • বেগুনি গাজরে অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, যা কোষের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।

সব ধরনের গাজরই পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

কাঁচা না রান্না করা, কোনটি ভালো?

দুইভাবেই গাজর খাওয়া যায় এবং দুই ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া সম্ভব।

  • কাঁচা গাজরে আঁশ বেশি অক্ষত থাকে।
  • হালকা সিদ্ধ বা রান্না করা গাজর থেকে বিটা-ক্যারোটিন শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।
  • সামান্য স্বাস্থ্যকর তেল দিয়ে রান্না করলে বিটা-ক্যারোটিনের শোষণ আরও বাড়তে পারে।
  • বেশি গাজর খেলে কি সমস্যা হতে পারে?

সাধারণ পরিমাণে গাজর খাওয়া নিরাপদ। তবে অতিরিক্ত গাজর খেলে কিছু মানুষের ত্বকে সাময়িকভাবে হলুদ বা কমলা আভা দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং গাজর কম খেলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

যাদের বার্চ বা মাগওয়ার্ট পরাগে অ্যালার্জি আছে, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে গাজরেও অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

গাজর খাওয়ার সহজ উপায়

  • সালাদে
  • সবজি বা তরকারিতে
  • স্যুপে
  • স্মুদি বা জুসে
  • ভাপে বা হালকা সিদ্ধ করে
  • স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে কাঁচা

গাজর একটি সহজলভ্য, কম ক্যালরিযুক্ত এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি। এতে থাকা ভিটামিন এ, আঁশ, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখ, হৃদ্‌যন্ত্র, হজম এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে গাজর রাখা একটি ভালো অভ্যাস হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য গ্রহণই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সূত্র: হেল্থলাইন