বেতন বাড়লেও চাকরি ছাড়ছেন অনেকে, কারণ জানলে অবাক হতে পারেন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বেতন বাড়লেও চাকরি ছাড়ছেন অনেকে, কারণ জানলে অবাক হতে পারেন
ছবি : সংগৃহীত

কর্মক্ষেত্রে নতুন একটি প্রবণতা নিয়ে এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। এর নাম কনশাস কুইটিং বা সচেতনভাবে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত। এটি হঠাৎ রাগ করে বা হতাশ হয়ে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নয়। বরং নিজের মূল্যবোধ, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করে পরিকল্পিতভাবে চাকরি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকেই বোঝায়।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে অনেক কর্মী শুধু বেতন বা পদোন্নতির দিকে নয়, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের নীতি এবং কাজের অর্থপূর্ণতার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ কারণেই কনশাস কুইটিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে।

কনশাস কুইটিং কী?

কনশাস কুইটিং হলো এমন একটি সিদ্ধান্ত, যেখানে একজন কর্মী বুঝতে পারেন যে তার বর্তমান চাকরি আর তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা বা মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তখন তিনি পরিকল্পনা করে নতুন সুযোগের দিকে এগিয়ে যান।

এটি কাজ এড়িয়ে যাওয়া বা দায়িত্বহীনতার প্রকাশ নয়। বরং নিজের জন্য আরও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ খুঁজে নেওয়ার একটি সচেতন পদক্ষেপ।

কেন বাড়ছে এই প্রবণতা

আগে অনেকেই ভালো বেতন বা চাকরির নিরাপত্তার জন্য অসন্তুষ্ট হলেও একই প্রতিষ্ঠানে থেকে যেতেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মনে করছে, শুধু ভালো বেতন পেলেই একটি চাকরি আদর্শ হয় না। কর্মক্ষেত্রে সম্মান, মানসিক স্বস্তি, শেখার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মহামারির পর বদলে গেছে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনেক মানুষ নিজের জীবন ও কাজ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকে বুঝতে পেরেছেন, কাজ জীবনের একটি অংশ মাত্র। পরিবার, স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি এবং ব্যক্তিগত লক্ষ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে কর্মীরা এখন প্রশ্ন করছেন, তাদের কাজ কি তাদের বিশ্বাস ও জীবনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিলছে, নাকি শুধু মাস শেষে বেতন পাওয়ার জন্যই তারা কাজ করছেন।

প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ এখন বড় বিষয়

বর্তমানে কর্মীরা খেয়াল করছেন, একটি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ সংরক্ষণ, বৈচিত্র্য, সমান সুযোগ, নৈতিক ব্যবসা এবং নেতৃত্বের জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো কতটা গুরুত্ব দেয়। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের কথার সঙ্গে কাজের মিল না থাকে, তাহলে অনেক কর্মী সেখানে দীর্ঘদিন থাকতে আগ্রহী হন না।

স্বচ্ছতাওদ বেড়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চাকরি পর্যালোচনার ওয়েবসাইট এবং পেশাদার নেটওয়ার্কের কারণে এখন চাকরি খোঁজার আগে একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা সম্ভব।

আগে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ইতিবাচক দিকই বেশি তুলে ধরতে পারত। এখন বর্তমান ও সাবেক কর্মীদের অভিজ্ঞতাও সহজেই জানা যায়।

ফলে চাকরিপ্রার্থীরা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কেও ধারণা নিতে পারেন।

শুধু বেতনই সব নয়

বেতন, পদোন্নতি এবং চাকরির সুবিধা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর সঙ্গে এখন আরও কিছু বিষয় যোগ হয়েছে। যেমন-

  • কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক পরিবেশ
  • মানসিক সুস্থতার গুরুত্ব
  • কাজের অর্থপূর্ণতা
  • শেখা ও উন্নতির সুযোগ
  • প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিশ্বাসের মিল

অনেকেই মনে করছেন, বেশি বেতন পেলেও যদি কর্মপরিবেশ বিষাক্ত হয় বা কাজের সঙ্গে নিজের মূল্যবোধের মিল না থাকে, তাহলে সেই চাকরিতে দীর্ঘদিন থাকা কঠিন।

কনশাস কুইটিং কি সব সময় ভালো?

এটি সবার জন্য একই রকম সিদ্ধান্ত নয়। শুধুমাত্র সাময়িক হতাশা বা আবেগের কারণে চাকরি ছেড়ে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্র আপনার মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ বা ক্যারিয়ার উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে পরিকল্পনা করে নতুন সুযোগ খোঁজা একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হতে পারে।

কনশাস কুইটিং কোনো ক্ষণস্থায়ী সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড নয়। এটি কর্মজীবন নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের একটি প্রতিফলন।

এখন অনেক কর্মী শুধু ভালো বেতন নয়, এমন একটি কর্মস্থল খুঁজছেন যেখানে তারা সম্মান, উদ্দেশ্য এবং মানসিক স্বস্তি একসঙ্গে পান। আর এ কারণেই সচেতনভাবে চাকরি পরিবর্তনের এই প্রবণতা দিন দিন আরও বেশি আলোচনায় আসছে।

সূত্র: এনডিটিভি