কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রাতে স্পেনের অনন্য রেকর্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রাতে স্পেনের অনন্য রেকর্ড
স্পেন ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে হারিয়ে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই ওঠেনি স্পেন, নিজেদের শক্তির বার্তাও আরও জোরালো করেছে লা রোজা। ডালাসে শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মিকেল মেরিনোর যোগ করা সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। সেই সঙ্গে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ গোল না খাওয়ার বিরল রেকর্ডও আরও উজ্জ্বল হলো স্পেনের।

ম্যাচটি দীর্ঘ সময় গোলশূন্য ছিল। প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারসাবাল বড় সুযোগ নষ্ট করেন। লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বায়েনার চেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন পর্তুগাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। অন্যদিকে নুনো মেন্দেসের শট ডিফ্লেক্ট হয়ে ক্রসবারে লেগে ফিরলে বেঁচে যায় স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল সতর্ক ছিল। স্পেন বল পায়ে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চেয়েছে, পর্তুগাল অপেক্ষা করেছে সুযোগের। কিন্তু শেষ পাস ও সিদ্ধান্তের জায়গায় দুই দলই দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় সব।

যোগ করা সময়ের শুরুতে দ্রুত আক্রমণ সাজায় স্পেন। ফেরান তোরেসের নিখুঁত পাসে পর্তুগালের রক্ষণভাগের ফাঁক গলে ঢুকে পড়েন মেরিনো। সামনে শুধু দিয়োগো কস্তা। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে দেন স্পেনের বদলি মিডফিল্ডার। ডালাসের রাতেই ভেঙে যায় পর্তুগালের প্রতিরোধ।

গোলটি শুধু স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেনি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ গল্পের শেষ পৃষ্ঠাও লিখে দিয়েছে হয়তো। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ তারকা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। স্পেনের কাছে হেরে পর্তুগালের বিদায়ের পর সেই অধ্যায়ও প্রায় শেষের দিকেই দাঁড়িয়ে গেল।

স্পেনের জন্য জয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ তাদের রক্ষণভাগের কারণে। এবারের বিশ্বকাপে এখনো কোনো গোল হজম করেনি তারা। কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু, এরপর সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া এবং এবার পর্তুগাল, প্রতিটি ম্যাচেই গোলবার অক্ষত রেখেছে দে লা ফুয়েন্তের দল। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে গোলশূন্য ম্যাচটিও ধরলে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচ গোল খায়নি স্পেন।

এই ধারাবাহিকতার কেন্দ্রে আছেন উনাই সিমোন, তবে কৃতিত্ব শুধু গোলরক্ষকের নয়। পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো মিলে স্পেনের রক্ষণকে দিয়েছে শৃঙ্খলা ও স্থিরতা। মাঝমাঠে রদ্রি ও পেদ্রি শুধু পাসের ছন্দই তৈরি করছেন না, প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই অনেক পথ বন্ধ করে দিচ্ছেন।

পর্তুগাল ম্যাচে স্পেন নিজেদের সেরা আক্রমণাত্মক ছন্দে ছিল না। লামিন ইয়ামালও পুরো ম্যাচে প্রত্যাশামতো মুক্ত হতে পারেননি। তবু বড় দলের শক্তি এখানেই, যখন খেলা মসৃণ হয় না, তখনও ম্যাচ জেতার রাস্তা খুঁজে নেওয়া। মেরিনোর গোল সেই পরিণত মানসিকতারই প্রমাণ।

পর্তুগালের জন্য রাতটি হতাশার। দিয়োগো কস্তা কয়েকবার দলকে বাঁচিয়েছেন, নুনো মেন্দেস বিপদ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু আক্রমণে ধার ছিল না। রোনালদো পুরো ম্যাচে চেষ্টা করলেও আগের মতো ম্যাচের নিয়তি নিজের হাতে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত এক ভুল, এক পাস, এক ফিনিশই তাদের বিশ্বকাপ শেষ করে দেয়।

স্পেন এখন কোয়ার্টার ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র বা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে। শিরোপার পথে সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা আছে। তবে পর্তুগালকে হারানোর রাত স্পেনকে একটি বিষয় নতুন করে মনে করিয়ে দিল, বিশ্বকাপ জিততে শুধু সুন্দর ফুটবল নয়, গোলবারও রক্ষা করতে হয়। আর সেই জায়গায় এবারের স্পেন এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্ত দলগুলোর একটি।