‘এটার শেষ কোথায়’, বালোগান বিতর্কে ফিফাকে প্রশ্ন ইংল্যান্ড কোচের

যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বকাপে বিতর্ক আরও বড় হচ্ছে। ফিফার সিদ্ধান্তে বেলজিয়াম ক্ষুব্ধ, উয়েফা কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে, আর ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল প্রশ্ন তুলেছেন, এমন সিদ্ধান্তের সীমা কোথায় গিয়ে থামবে।
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। স্বাভাবিক নিয়মে তার এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তাতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাঁকে পাওয়ার কথা ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু ফিফা পরে জানায়, শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বালোগানের স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা এক বছরের পরীক্ষামূলক সময়ের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার ছাড়পত্র পান তিনি।
এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উয়েফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, ফিফা এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমা লঙ্ঘন করেছে। তাদের বক্তব্য, ফুটবল নিয়মের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, আর লাল কার্ডের পর ন্যূনতম এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কোনো খেয়ালখুশির বিষয় নয়। টুর্নামেন্টের মাঝপথে এমন ব্যতিক্রম তৈরি করলে প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উয়েফা আরও বলেছে, নিয়মের নিশ্চয়তা যদি নিয়ম রক্ষাকারীদের কাছেই অনিশ্চিত হয়ে যায়, তাহলে খেলার সততা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তাদের ভাষায়, সিদ্ধান্তটি নজিরবিহীন, দুর্বোধ্য ও অযৌক্তিক।
বেলজিয়ামও সিদ্ধান্তে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বালোগানকে খেলতে দেওয়ার বিষয়টি তারা চ্যালেঞ্জ করে। বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া কটাক্ষ করে বলেন, তিনি জানতেন না বিশ্বকাপে ৫ জুলাই আসলে ১ এপ্রিল, অর্থাৎ এপ্রিল ফুলস ডে।
বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেলও। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচে তার দলের ডিফেন্ডার জারেল কোয়ানসাহ লাল কার্ড দেখেন। সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত না হলেও টুখেল প্রশ্ন তুলেছেন, আপিল ও শাস্তি স্থগিতের সীমা কোথায়।
টুখেলের প্রশ্ন ছিল সরাসরি। হলুদ কার্ড যদি হলুদ কার্ড না মনে হয়, সেটিরও কি আপিল হবে? কোন লাল কার্ড সত্যি লাল নয়, সেটি কে ঠিক করবে? কোথা থেকে শুরু হবে, আর কোথায় গিয়ে শেষ হবে? ইংল্যান্ড কোচের মতে, সবচেয়ে জরুরি হলো সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা রাখা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিতর্কের অংশ হয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে বালোগানের লাল কার্ডের ঘটনা আবার দেখতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, তিনি কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি, শুধু ঘটনাটি পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর মতে, ঘটনাটি ছিল দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবিক সংঘর্ষ, ফাউল নয়।
ট্রাম্প পরে ফিফার সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেন। তবে তাঁর হস্তক্ষেপের পর ফিফার সিদ্ধান্ত আসায় সমালোচনা আরও বেড়েছে। অনেকের প্রশ্ন, বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় শৃঙ্খলা সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাবের ছাপ পড়ছে কি না।
বালোগান এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন। তিন গোল করা এই স্ট্রাইকারকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় স্বস্তি। কিন্তু তাঁকে খেলার ছাড়পত্র দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন থামছে না।
ফিফা বলছে, তাদের বিচারিক সংস্থা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। তবে উয়েফা, বেলজিয়াম এবং ইউরোপের আরও কয়েকটি ফুটবল সংস্থার প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, বিষয়টি এখন আর শুধু একটি লাল কার্ড বা একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় সীমাবদ্ধ নেই।
থায়?’




