বিশ্বকাপে আরেক ইতিহাস করলেন মেসি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা খেলতে নেমেছিল তাদের সৌভাগ্যের নীল জার্সি পরে। সেই সৌভাগ্যের জার্সি পরে এবারের বিশ্বকাপে আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে আর্জেন্টিনা।
এমন সৌভাগ্যের দিনে আরেক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন রেকর্ড ক্রিয়েটর লিওনেল মেসি। গোলের পর গোল করে যেমন ইতিহাস লিখছেন, তেমনি সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েও একের পর এক রেকর্ড নিজের নামে করে নিচ্ছেন আকাশি নীল অধিনায়ক।
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আরও দুটি অ্যাসিস্ট করার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন এক কীর্তি গড়েছেন মেসি, যা ১৯৬৬ সালের পর আর কোনো ফুটবলার স্পর্শ করতে পারেননি।
আজ আটালান্টা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দুটি অ্যাসিস্ট করেন লিওনেল মেসি। এর ফলে ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার মোট অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে।
আরও অবাক বিষয় হলো, এই ১২টি অ্যাসিস্টের মধ্যে ১০টিই এসেছে নকআউট পর্বে। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতেই সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছেন ফুটবলের এই মহাতারকা।
১৯৬৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানগত ইতিহাসে কোনো ফুটবলারের অ্যাসিস্ট ৮টির বেশি নয়। সেখানে মেসি ১২ অ্যাসিস্ট নিয়ে একাই সবার নাগালের বাইরে এখন।
নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপেই একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এবারের আসরে আট গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন রেকর্ড ২১টি। যদিও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো গোল পাননি।
বিশ্বকাপে গোল, অ্যাসিস্ট, ম্যাচ জেতানোর অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব নিয়ে খেলা—সব মিলিয়ে মেসি আরও একবার প্রমাণ করলেন, ফুটবল ইতিহাসে তার অবস্থান অনন্য, অবিশ্বাস্য।
কাতার বিশ্বকাপের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে আরেকটি শিরোপার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার অভিযানে তার অবদান কতটুকু, তা আবারও প্রামণিত হয়ে উঠছে।




