‘ছোটবেলা থেকেই এই গোলের স্বপ্ন দেখেছি’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, যোগ করা সময় চলছে। লিওনেল মেসির বাঁকানো ক্রসে হেড করে বল জালে পাঠালেন লাউতারো মার্তিনেজ। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। আর ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না জয়সূচক গোলের নায়ক।
৮১ মিনিটে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন লাউতারো। তখনো ১-০ গোলে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের সাত মিনিট পর তার হেডেই পূর্ণতা পায় অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যান লাউতারো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এমন একটি গোলের স্বপ্ন দেখেছি।’
বাবা প্রথমবার তাকে এক জোড়া ফুটবল বুট কিনে দেওয়ার পর থেকেই বড় মঞ্চে এমন গোল করার স্বপ্ন দেখতেন লাউতারো। এ সময় মায়ের কথাও স্মরণ করেন তিনি। রেসিং ক্লাবে যোগ দিতে বাড়ি ছাড়ার পরও মা তার ঘর ও বিছানা আগের মতোই যত্ন করে রেখেছেন। লাউতারোর কাছে সেই ভালোবাসার মূল্য একটি গোল কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি।
নিজের দুই সন্তানকেও আবেগভরা মুহূর্তে স্মরণ করেছেন ইন্টার মিলানের অধিনায়ক। সন্তানদের আগমনের পর জীবনকে নতুনভাবে দেখতে ও প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে শিখেছেন বলে জানান তিনি।
গোলটি যে নিছক কাকতালীয় ছিল না, সেটিও জানালেন লাওতারো। ম্যাচের আগেই অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে গোল করার কথা বলেছিলেন। ফাকুন্দো মেদিনাকেও জানিয়েছিলেন, বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাবেন তিনি।
কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলেও কোনো গোল করতে পারেননি লাউতারো। চার বছর পর সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়েছেন দারুণভাবে। জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোলের পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও জাল খুঁজে পান। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোল।
ম্যাচের বিশ্লেষণে লাউতারো জানান, প্রথম ঘণ্টা প্রবল চাপ দেওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। গর্ডনের গোলে এগিয়ে গিয়ে দলটি রক্ষণে নেমে যাওয়ায় বল নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণ সাজানোর সময় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগেই দুটি গোল তুলে নিয়ে আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা





