বোনোর বীরত্বে ডাচদের বিদায় করল মরক্কো

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
বোনোর বীরত্বে ডাচদের বিদায় করল মরক্কো
ইয়াসিন বোনো। ছবি: সংগৃহীত

কাতারে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল মরক্কো। চার বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে আবারও সেই স্নায়ুর লড়াই, আবারও ইয়াসিন বোনো, আবারও মরক্কোর উল্লাস। এবার নেদারল্যান্ডসকে পেনাল্টিতে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল আফ্রিকার দলটি।

Advertisement

মন্টেরেতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১। এরপর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জিতে যায় মরক্কো। কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের হেডে ম্যাচে ফিরে আসে মরক্কো। এরপর পেনাল্টিতে বোনোর নায়কত্বে ডাচদের বিদায় করে তারা।

ম্যাচের বড় অংশেই বেশি সাহসী ও আক্রমণাত্মক ছিল মরক্কো। নেদারল্যান্ডস যেখানে সতর্ক ফুটবল খেলছিল, সেখানে মরক্কো বারবার হাকিমি, সাইবারি, ওনাহি ও এল খানুসের মুভমেন্টে ডাচ রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলছিল।

প্রথমার্ধেই কয়েকবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। নিল এল আইনাউইয়ের চেষ্টা ঠেকান ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন। আয়ুব বুয়াদ্দিও সুযোগ পেয়েছিলেন। আচরাফ হাকিমি ডান দিক থেকে বারবার বিপদ তৈরি করেন। কিন্তু শেষ পাস বা ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থাকায় বিরতিতে গোল পায়নি মরক্কো।

নেদারল্যান্ডস প্রথমার্ধে বল রাখলেও মরক্কোর মতো ধারালো ছিল না। কোচ রোনাল্ড কোমান রক্ষণে নিরাপত্তা রাখতে সতর্ক ছক নেন। ডাচদের আক্রমণ অনেকটাই নির্ভর করছিল ক্রিসেনসিও সামারভিলের গতি ও কোডি গাকপোর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ওপর।

দ্বিতীয়ার্ধেও মরক্কো ম্যাচে প্রভাব রাখছিল। কিন্তু গোল আসে উল্টো দিকে। ৭২ মিনিটে সামারভিলের দৌড় ও লড়াই থেকে বল পান গাকপো। তার নিচু শটে বোনো পরাস্ত হন। ব্যক্তিগত কঠিন সময়ের মধ্যেও গাকপোর সেই গোল নেদারল্যান্ডসকে শেষ ষোলোর খুব কাছে নিয়ে যায়।

কিন্তু মরক্কো তখনও শেষ কথা বলেনি। শেষ দিকে বদলি নামা চেমসদিন তালবি বাঁ দিক থেকে দারুণ ক্রস দেন। সেই ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন ইসা দিওপ। যোগ করা সময়ের সেই গোলেই ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। যেভাবে ম্যাচ চলছিল, তাতে সমতাটি মরক্কোর প্রাপ্যই ছিল।

অতিরিক্ত সময়েও বড় সুযোগ পেয়েছিল মরক্কো। সৌফিয়ান রাহিমি প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু ভারব্রুগেন অসাধারণ সেভ করে নেদারল্যান্ডসকে টিকিয়ে রাখেন। ওই সেভ ম্যাচটিকে টাইব্রেকারে নিয়ে যায়।

টাইব্রেকার ছিল নাটকে ভরা। পোস্ট, ক্রসবার, সেভ, ভুল, সবই ছিল সেখানে। মরক্কোর হয়েও সুযোগ নষ্ট হয়েছে। নিল এল আইনাউই ক্রসবারে মারেন, হাকিমির শট পোস্টে লাগে। কিন্তু বোনো ঠিক সময়ে নিজের কাজটি করেন। সামারভিলের পেনাল্টি ঠেকিয়ে আবারও বড় মঞ্চে মরক্কোর ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি।

শেষ পেনাল্টিতে ইসমাইল সাইবারি গোল করতেই মরক্কোর উৎসব শুরু হয়। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্টরা আবারও প্রমাণ করল, তাদের সাফল্য কোনো একবারের বিস্ময় ছিল না। তারা এখন বড় দলগুলোর বিপক্ষে সমানে সমান লড়তে পারে, বল দখলে রাখতে পারে, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে স্নায়ুর পরীক্ষায়ও জিততে পারে।

নেদারল্যান্ডসের জন্য হারটি হৃদয়ভাঙা। গাকপোর গোল তাদের এগিয়ে দিয়েছিল। ভারব্রুগেন কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে দলকে বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দিওপের হেড এবং টাইব্রেকারের ব্যর্থতা তাদের বিশ্বকাপ শেষ করে দিল।