মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে বাংলাদেশি আলেমদের বৈঠক

আফছার হোসাইন, মিশর
মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে বাংলাদেশি আলেমদের বৈঠক
কায়রোতে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে বাংলাদেশি ইমামরা সাক্ষাৎ করছেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি এবং ‘দারুল ইফতা আল-মিসরিয়ার প্রধান ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশি আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল।

Advertisement

সোমবার (২৯ জুন) কায়রোতে মিশরের বিখ্যাত আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাম প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে যাওয়া এই প্রতিনিধি দলটি গ্র্যান্ড মুফতির কার্যালয়ে তার সঙ্গে এই বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে মিশরের গ্র্যান্ড মুফতি ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ বলেন, বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক রয়েছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সফর দুই দেশের আলেম সমাজের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

তিনি ইফতা (ফতোয়া) শিক্ষা, ফতোয়া গবেষণা এবং মুফতিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, দারুল ইফতা মিশর মুফতিদের যুগোপযোগী ও দায়িত্বশীলভাবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। একজন যোগ্য মুফতির জন্য শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং সমাজের বাস্তবতা, মানুষের জীবনব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এর মাধ্যমেই সময়োপযোগী, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল ফতোয়া প্রদান করা সম্ভব। বাংলাদেশি ইমাম ও আলেমদের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ দেশে ইসলামের শান্তি, সহনশীলতা, মানবিকতা ও মধ্যপন্থার আদর্শ তুলে ধরার আহ্বান জানান গ্র্যান্ড মুফতি।

বৈঠকে বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আল-আজহার শরিফ ও দারুল ইফতা মিসরের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎ শেষে ঢাকাস্থ দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল্লাহ বলেন, মিশরের গ্র্যান্ড মুফতির সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক মুআদালাকৃত দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সমসাময়িক ফতোয়া বিভাগ চালুর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি মূল্যবান পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) প্রভাষক মাওলানা জোহায়ের ফুরকান, দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া চট্টগ্রামের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ নুর মাজহার আনোয়ারী, দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া উত্তরার শিক্ষক মাওলানা হাফিজ শিব্বির আহমেদ, খিলক্ষেত জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফিজ সাইফুল্লাহ বিন জাফর এবং বনানী সেন্ট্রাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা দেলোয়ার হোসেন।