কেপ ভার্দের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় মেসিরা

অভিষেক বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দে যে গল্প লিখেছিল, সেটি শেষ হলো বীরের মতো লড়াই করেই। তবে শেষ পর্যন্ত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতার কাছেই থামতে হলো আফ্রিকার ছোট দেশটিকে। মায়ামিতে শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে আর্জেন্টিনা।
মেসি থাকলে নিজেদের সেরা দিনে না থেকেও জেতা যায়, তবে তাতে ভোগান্তি কমে না। মায়ামিতে সেটিই টের পেল আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরেই চমক দেখানো কেপ ভার্দে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শেষ পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিল। তবে অতিরিক্ত সময়ে রোমেরোর হেড ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় ওঠে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল ধীর, প্রায় নিস্তরঙ্গ। সেই একঘেয়েমি ভাঙেন লিওনেল মেসি। ২৮ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লম্বা পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কাছের পোস্টে নিখুঁত শটে গোল করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার সপ্তম গোল, বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে ২০তম।
প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও কেপ ভার্দে ভেঙে পড়েনি। বরং দ্বিতীয়ার্ধে আরও সাহসী হয়ে ওঠে তারা। ৫৯ মিনিটে রায়ান মেন্দেসের পাস থেকে দেরয় দুয়ার্তে কাছের পোস্টে শট নিয়ে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করেন। স্কোর হয় ১-১।
এরপর আর্জেন্টিনা চাপ বাড়ালেও গোলরক্ষক ভোজিনিয়া বারবার কেপ ভার্দেকে বাঁচিয়ে রাখেন। মেসির কাছ থেকে গোল প্রায় নিশ্চিত মনে হওয়া শটও আটকে দেন তিনি। নির্ধারিত সময় শেষে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই লিসান্দ্রো মার্তিনেজের জোরালো শটে আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নারের পর বল পেয়ে বাঁ পায়ে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। কিন্তু কেপ ভার্দে তখনও শেষ হয়ে যায়নি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ দিকে সিডনি লোপেস কাবরাল বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ বাঁকানো শটে বল পাঠান জালের ওপরের কোণায়। এমিলিয়ানো মার্তিনেজের কিছুই করার ছিল না। গোলটি এই বিশ্বকাপের অন্যতম সুন্দর গোল বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না।
পেনাল্টি শুটআউটের শঙ্কা যখন বাড়ছিল, তখন আবারও মেসির কর্নার থেকে পথ খুঁজে নেয় আর্জেন্টিনা। ১১১ মিনিটে তার ডেলিভারিতে রোমেরোর হেড ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে যায়। সেটিই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয় স্কালোনির দলকে।
শেষ দিকেও কেপ ভার্দে থামেনি। সিডনি লোপেস কাবরালের ফ্রি-কিক ঠেকাতে দুর্দান্ত সেভ করতে হয় এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে। শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো মরিয়া রক্ষণ করতে হয়েছে।
কেপ ভার্দে হারল, কিন্তু মাথা উঁচু করেই। স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের পর এবার আর্জেন্টিনাকেও তারা শেষ সীমা পর্যন্ত নিয়ে গেল। ভোজিনিয়ার সেভ, কাবরালের গোল, দেরয় দুয়ার্তের সমতা, সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকেই নিজেদের গল্প লিখে গেল আফ্রিকার ছোট দেশটি।
আর্জেন্টিনা এগোল, তবে এই জয় তাদের সতর্কবার্তাও দিয়ে গেল। শিরোপা ধরে রাখার পথে মেসিদের পরের প্রতিপক্ষ মিশর। কেপ ভার্দে-পরীক্ষা পেরিয়ে তারা শেষ ষোলোয় উঠেছে, কিন্তু সামনে আরও বড় চাপ অপেক্ষা করছে।




